শিশুকে নির্যাতনের পর ন্যাড়া, কারাগারে স্থানীয় নেতার স্ত্রী

শিশুকে নির্যাতনের পর ন্যাড়া, কারাগারে স্থানীয় নেতার স্ত্রী

শেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০১ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:০৮ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

শেরপুর জেলার শ্রীবরর্দী এলাকার স্থানীয় নেতা আহসান হাবিব শাকিলের বাসার গৃহকর্মীকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগে শাকিলের স্ত্রী রুমানা জামান ঝুমুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে অভিযুক্ত ঝুমুরকে আদালতের মাধ্যমে শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

শাকিল স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা আশরাফ হোসেন খোকার ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে।

নির্যাতিত ওই গৃহকর্মীর নাম সাদিয়া উরফে ফেলি। ১০ বছর বয়সী সাদিয়া শ্রীবরর্দী পৌর এলাকার মুন্সিপাড়া মহল্লার গরিব কৃষক সাইফুল ইসলামের মেয়ে। শাকিল স্ত্রী ঝুমুরকে নিয়ে শহরের খামারিয়া পাড়া এলাকায় সোনালী ব্যাংকের উপর ছয়তলায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় থাকেন। অভিযুক্ত ঝুমুরের সঙ্গে নয় বছর আগে শাকিলের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ঝুমুরের প্রথম পক্ষে আরো দুটি সন্তান রয়েছে। শাকিলের দিকেও দুটি সন্তান রয়েছে।

জানা যায়, ১১ মাস আগে শিশু সাদিয়াকে গৃহকর্মী হিসেবে আনা হয়। কিছু হলেই তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করতেন শাকিলের স্ত্রী ঝুমুর। সাদিয়া ছোট মানুষ হলে কাজ দেয়া হতো বড়। সংসারের সব কাজ তাকেই করতে হতো। এর ধারাবাহিকতায় অনেকদিন ধরে মেয়েটির ওপর নির্যাতন চলছিল।

শুক্রবার রাতে মেয়েটির ওপর নির্যাতন হলে তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী কে বা কারা ৯৯৯-এ জানালে পুলিশ রাত ১২টায় ওই অভিযুক্ত ঝুমুরকে ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করে শেরপুর সদর কারাগারে পাঠায়। ঝুমুরকে অভিযুক্ত করে এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। শিশুটিকে রাতেই শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থা সংকাটাপন্ন হওয়ায় শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।  

শিশু সাদিয়া জানায়, শুধু নির্যাতন নয় তাকে খাবার পর্যন্ত দেয়া হতো না। পশুর মতো নির্যাতন করা হতো। বাড়ি যেতে চাইলেই মারধর করা হতো। যন্ত্রণায় চিৎকার করলে আরো মারধর করতো। বাবা-মা কারো সঙ্গে দেখা করতে দিতো না।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক খায়রুল কবির সুমন জানায়, মেয়েটির ওপর অমানবিক নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে করা হচ্ছে। আপাদমস্তক তার নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পেটে পানি এসে গেছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

শেরপুরের এএসপি (সদর সার্কল) আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কি না তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ