ছাত্রাবাসে সেই ধর্ষণকারীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন অধ্যক্ষ

ছাত্রাবাসে সেই ধর্ষণকারীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন অধ্যক্ষ

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৩০ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

এমসি কলেজের ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা

এমসি কলেজের ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা

করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। বন্ধ থাকার সময়ে ছাত্রাবাস খোলা থাকায় সেই ছাত্রাবাসে ধর্ষণের শিকার হলেন তরুণী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, করোনার এ সময়ে সিলেট এমসি কলেজের কর্তৃপক্ষ ছাত্রাবাসে থাকার সুযোগ করে দিত বহিরাগতসহ কলেজ শিক্ষার্থীদের। তা আবার সরকারের নির্দেশনা অমান্য করেই এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে প্রভাব খাটিয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকত নামধারী কিছু নেতাকর্মীরা। সবকিছু জানার পরেই মুখ বন্ধ করে থাকতে হতো কলেজ কর্তৃপক্ষের। বহিরাগত নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কলেজের বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ছাত্রাবাসে বসবাস করে আসছিলেন। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের জানা থাকলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

শনিবার সকালে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ উদ্দিন বলেন, করোনা পরিস্থিতি সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই কলেজ ও ছাত্রাবাস বন্ধ করে দেয়া হয় নোটিশ দিয়ে। তবে অনেক শিক্ষার্থীরা রয়েছেন কলেজে পড়াশুনার পাশাপাশি চাকরি ও টিউশনি করেন। সেইসব শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাসে থাকার জন্য হোস্টেল সুপারের মাধ্যমে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিল। তখন আমি হোস্টেল সুপারকে বলেছি যারা বৈধ তাদের কয়েকজনকে ছাত্রাবাসে থাকার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। তবে ছাত্রবাসে থাকলেও তারা ছাত্রাবাসের ডাইনিং ও গ্যাস ব্যবহার করতে পারবে না। সেজন্য ছাত্রাবাসের ডাইনিং বন্ধ রাখার পাশাপাশি গ্যাস সংযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ছাত্রাবাসের ছয়টি ব্লক ও পূর্ব দিকে একটি চারতলা ভবন রয়েছে। সেখানে প্রায় তিনশ’ শিক্ষার্থী থাকত। কলেজ ও ছাত্রাবাস বন্ধ হওয়ার পর মানবিক দিক বিবেচনা করে ছাত্রাবাসে প্রায় ২০-৩০ জনকে থাকাতে মৌখিকভাবে বলা হয়। বহিরাগত কেউ থাকছে কিনা বা কলেজের শিক্ষার্থীরা নির্দেশনা মানছে কিনা সে বিষয় দেখতেন হোস্টেল সুপার। শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ছাত্রাবাসের কয়েকটি কক্ষ তল্লাশি করে বন্ধ করা হয়।

হোস্টেল সুপার বিষয়টি দেখার পরেও কিভাবে ছাত্রাবাসের কক্ষে অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি কারো গাফিলতির সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কলেজের পক্ষ থেকে দ্রত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে আমাদের কলেজের কয়েজন শিক্ষক নানা বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করে দেখছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তিময় সরকার বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ছাত্রাবাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ছাত্রাবাস ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। শুক্রবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্রাবাসের সাইফুর রহমানের রুম থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও ছোরা উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি প্রাইভেটকারে করে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এমসি কলেজে বেড়াতে আসেন দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির এক গৃহবধূ। ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী মিলে স্বামীসহ ওই গৃহবধূকে তুলে নেন পার্শ্ববর্তী কলেজ ছাত্রাবাসে। এ সময় তারা প্রাইভেটকারও ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করার পাশাপাশি ওই তরুণীকে ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ