কাঁকড়া-কুঁচে রফতানিতে চীনের নতুন শর্ত 

কাঁকড়া-কুঁচে রফতানিতে চীনের নতুন শর্ত 

এইচএম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩৫ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৯ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশের লবণাক্ত এলাকায় খাল-বিল নদী-নালা চিংড়ি ঘের ও ঝিল থেকে সংগ্রহ করা হয় কাঁকড়া ও কুঁচে। এ শিল্পের সঙ্গে শুধুমাত্র কক্সবাজারে রয়েছেন লক্ষাধিক উৎপাদনকারী,  বিপণন ও সরবরাহকারী। তবে বর্তমানে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কাঁকড়া ও কুঁচে শিল্প। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের শতকরা ৮০ ভাগ কাঁকড়া-কুঁচের চাহিদা রয়েছে শুধুমাত্র চীনে। তাই দেশটির আমদানিকারকরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও মৎস অধিদফতরকে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করেছে। আর এই শর্তগুলো হলো, ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা আরো পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে হবে। পরিবেশ বান্ধব কোল্ড স্টোর থাকতে হবে। জীবন্ত কাঁকড়া ও কুঁচে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সংরক্ষণ করতে হবে। প্যাকেটিং সিস্টেমের গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত হাইজেনিক ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে।  

বাধ্য হয়ে এ পেশা ছাড়ছেন অনেক ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারী বলে জানিয়েছেন মহেশখালীর কাঁকড়া ও কুঁচে সরবরাহকারী দিলীপ কুমার সুশীল। 

কাঁকড়া ও কুঁচে সরবরাহকারী সমিতির কক্সবাজার শাখার সভাপতি আবু তৈয়ব জানান, এসব শর্ত পূরণ না হলে বাংলাদেশ থেকে কাঁকড়া কুঁচে আমদানি করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন চীনের ব্যবসায়ীরা। 

তবে চীন ছাড়াও খুব সীমিত পরিসরে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে বিনাশর্তে কমমূল্যে রফতানি করা হচ্ছে কাঁকড়া ও কুঁচে। তাই প্রতি কেজি কাঁকড়া ও কুঁচে অতীতে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হতো মাঠ পর্যায়ে। হঠাৎ দাম পড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি কাঁকড়া ও কুঁচে মাঠ পর্যায়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে। কাঁকড়া-কুঁচের দরপতনের পর এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৭ লাখ লোক চরম অর্থ সংকটে ও দৈন্যদশায় পড়েছে।

রফতানিকারক সমিতির সভাপতি গাজী আবুল কাশেম জানান, কাঁকড়া ও কুঁচে ব্যবসায়ীরা মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোক। তাই কোল্ডস্টোর তৈরি করতে ২৫-৩০ কোটি টাকার প্রয়োজন। পুঁজি সংকটের কারণে চায়নার দেয়া শর্তে আটকে আছে কাঁকড়া ও কুঁচে রফতানি। 

এদিকে কক্সবাজারের চকরিয়ার কাঁকড়া ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় রফতানিকারক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক পটল কুমার জানান, একদিকে কোবিড-১৯ অপরদিকে চীনে কাঁকড়া ও কুঁচে রফতানি বন্ধ থাকায় উৎপাদক, পরিবহন শ্রমিক বিপণনকারীরা এখন পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদ জানিয়েছেন পর্যায়ক্রমে সব শর্ত মানতে আমরা প্রস্তুত, তবে কাঁকড়া-কুঁচে রফতানি বন্ধ করে নয়। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র  মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে চায়নার বাজার অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

গত জুলাই মাসে কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাঁকড়া কুঁচে উৎপাদনকারী পরিবহন শ্রমিক ও বিপণনকারীরা চীনের বাজার খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন স্মারকলিপি নিয়ে শত শত ক্ষতিগ্রস্ত লোক রাস্তায় নেমে আসেন।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম  খালেকুজ্জামান বলেন, কাঁকড়া-কুঁচে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ও বিপণন পদ্ধতিতে আধুনিকায়ন করার প্রক্রিয়া চলছে। সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থায় জীবাণুমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মত করার জন্য এই শিল্পে সম্পৃক্তদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজও এগিয়ে চলছে। আশা করা হচ্ছে আমদানিকারকদের দেয়া শর্তগুলো শিগগিরই দূর হবে। এ শিল্পে ফিরে আসবে আবার প্রাণচাঞ্চল্য। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম/জেএইচ/আরএইচ