রাতের আঁধারে জমি দখল করে আবাসন নির্মাণ

রাতের আঁধারে জমি দখল করে আবাসন নির্মাণ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৮ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে জমির চার দিকে বেড়া দিয়ে ভেতরে আবাসন নির্মাণ শুরু করেন আব্দুল ওহাব

বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে জমির চার দিকে বেড়া দিয়ে ভেতরে আবাসন নির্মাণ শুরু করেন আব্দুল ওহাব

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় রাতের আঁধারে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর ঘর ভাঙচুর করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল ওহাব নামে এক ইউপি সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দলবল নিয়ে ওই জমিতে আবাসন নির্মাণ শুরু করেন সমাজসেবা কার্যালয়ে ইউপি সমাজকর্মী আব্দুল ওহাব।

অভিযুক্ত আব্দুল ওহাব উপজেলার মহিষখোচা ইউপির সর্দারপাড়া গ্রামের ছমির উদ্দিনের ছেলে। তিনি সমাজসেবা অধিদফতের লালমনিরহাট শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে ইউপি সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত।

অভিযোগে জানা যায়, সর্দারপাড়া গ্রামের ছমির উদ্দিনের চার ছেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের বৈঠকে পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টন নামা করে নেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দীর্ঘ ১০-১৫ বছর ধরে স্ব স্ব অংশ ভোগদখল করে আসছেন তারা। তৃতীয় ছেলে মমিনুল ইসলাম প্রাপ্ত জমি থেকে গত ৬ সেপ্টেম্বর ৬ শতাংশ জমি স্ত্রী সুলতানা পারভীন রূপালিকে দেনমোহরনা বাবদ হেবা দলিল করে দেন। পরবর্তীতে ওই জমিতে টিনশেড ঘর তৈরি করেন তিনি।

পৈতৃক জমি স্ত্রীর নামে লিখে দেয়ায় ছোট ভাইয়ের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন বড় ভাই সমাজকর্মী আব্দুল ওহাব। স্বামী পেশাগত কারণে বাইরে থাকায় দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকতেন স্ত্রী সুলতানা পারভীন রূপালি। এ সুযোগে গত ২১ সেপ্টেম্বর ৩০-৩৫ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর ঘরটি ভেঙে ফেলে দেন আব্দুল ওহাব। বাধা দিলে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রূপালি বিবস্ত্র করে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। স্থানীয়রা ছুটে এসে অজ্ঞান অবস্থায় রক্তাক্ত রূপালিকে উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরবর্তীতে গৃহবধূ সুলতানা পারভীন রূপালি জমি উদ্ধারের জন্য আব্দুল ওহাবসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিবাদমান জমির উপর ১৪৪ ধারা জারি করেন। আদালতের ওই নির্দেশ অমান্য করে বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে জমির চার দিকে বেড়া দিয়ে ভেতরে আবাসন নির্মাণ শুরু করেন আব্দুল ওহাব।

বাদী সুলতানা পারভীন রূপালি বলেন, প্রতিপক্ষ টাকার জোরে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে পিটিয়ে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত করে। আমি সজ্ঞাহীন হলে তারা আমার ঘর ভাঙচুর করে রাস্তায় ফেলে দেয়। আমি সুস্থ হয়ে আদালতে গিয়েছি। আদালত নির্দেশ দিলেও তারা অমান্য করে জমি জবর দখলের চেষ্টা করছে। বাধা দিলে আমাদেরকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তারা টাকার জোরে সবাইকে ম্যানেজ করে আমার জমি দখলের চেষ্টা করছে। তিনি ন্যায় দাবি করেন।

তাদের প্রতিবেশী ইদ্রীস আলী বলেন, জমিটির উপর রূপালির একটি ঘর ছিল। তা ওহাব দলবল নিয়ে ভেঙে দিয়েছে। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ওই জমিটি বেড়া দিয়ে ঘেরা।

অভিযুক্ত আব্দুল ওহাবের স্ত্রী উম্মে কুলসুম ফেরদৌসী বলেন, রাত হোক বা দিনে হোক  আমাদের জমি আমরা ঘিরে নিয়েছি। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

আদিতমারী থানার ওসি (তদন্ত) গুলফামুল হক গুলফাম বলেন, আদালতের নির্দেশে দুই পক্ষকে নালিশী জমিতে না যেতে নির্দেশ দিয়েছি। এরপরেও কেউ তা অমান্য করলে পুনরায় আদালতকে অবগত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ