কোন্দলে নিস্তেজ হবিগঞ্জ বিএনপি

কোন্দলে নিস্তেজ হবিগঞ্জ বিএনপি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৫ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:০৫ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

হবিগঞ্জে রাজনীতির মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে নেই  বিএনপি। নেতাদের কোন্দলের কারণে এ জেলায় দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচি একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েছে। নেতৃত্ব সংকটের কারণে কর্মীদের মাঝেও বিরাজ করছে হতাশা। 

তৃণমূল নেতা-কর্মীরা জানান, সঠিক নেতৃত্বের অভাবে হবিগঞ্জে জনসমর্থন ধরে রাখতে পারছে না বিএনপি। জেলার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সৃষ্ট কোন্দলের কারণে দিনে দিনে সাংগঠনিক শক্তি হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে দলটি। 

তারা আরো জানান, হবিগঞ্জ বিএনপি বিভক্ত হয়েছে তিনটি দলে। মূল দল ছাড়া বাকি দুটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিলুপ্ত হওয়া কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক সেলিম ও যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রশীদ এমরান। দুজনই বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এ অবস্থায় রাজনৈতিক কর্মসূচি বেগবান হচ্ছে না।

জানা যায়, ১২ বছর ধরেই জেলা বিএনপিতে কোন্দল চলছে। দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ সুজাত মিয়াকে হটিয়ে ২০১১ সালের এপ্রিলে কেন্দ্রীয় নেতাদের ম্যানেজ করে ওই পদটি বাগিয়ে নেন জিকে গউস। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে দীর্ঘদিন। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। ২০১১ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটিও কেন্দ্র থেকে অনুমোদন পায়। কিন্তু বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। দুই বছর মেয়াদের কমিটির সময়সীমা পার হলেও কাউন্সিল হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

কয়েক বছর ধরে হবিগঞ্জ বিএনপি অনেকটাই নিস্ক্রিয়। নেতাদের মাঠে দেখা গেছে নামকাওয়াস্তে। সাবেক সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল রাজধানীতে অবস্থান করায় নেতা-কর্মীরা তার সাক্ষাৎ পান কালেভদ্রে।

হবিগঞ্জ বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম বলেন, একটি বড় দলে কোন্দল থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু জেলার শীর্ষ নেতাদের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে 'মালিক-কর্মচারী' আচরণের কারণে হবিগঞ্জ বিএনপি বিকশিত হতে পারছে না। নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তৃণমূলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করে অনুপ্রবেশকারীদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এসব  কারণে নেতা-কর্মীরা দলবিমুখ হচ্ছেন। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য যোগ্য লোকের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে।

হবিগঞ্জ বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল বলেন, নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে কিছুটা গ্যাপ থাকতে পারে। তবে নিবেদিত নেতা-কর্মীদের নিয়েই কেন্দ্রের যেকোনো কর্মসূচি আমরা যথাযথভাবে পালন করছি।

বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশিম বলেন, অতীতে কি হয়েছে তা নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য এখন যোগ্য ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে হবিগঞ্জের রাজনীতিতে বিএনপিকে চাঙা করে তোলা। সে লক্ষ্যেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এইচএন