দুদিন আগে গর্ত খুঁড়ে বন্ধুকে হত্যা, প্রকাশ্যে লোমহর্ষক কাহিনী

দুদিন আগে গর্ত খুঁড়ে বন্ধুকে হত্যা, প্রকাশ্যে লোমহর্ষক কাহিনী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৫৬ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৭ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

সুজন হোসেন

সুজন হোসেন

২০ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন সুজন। তিনি ওই গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী জিল্লুর রহমানের একমাত্র ছেলে এবং ঝিনাইদহ সিটি কলেজের শিক্ষার্থী। নিখোঁজের চারদিন পর বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার আউশিয়া গ্রামে গ্রামের ধানক্ষেতের সেচ পাম্পের ঘর থেকে মাটিচাপা অবস্থায় সুজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শৈলকুপা থানার এসআই আমিরুল ইসলাম বলেন, সুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকজনকে সন্দেহ করা হয়।

এরপর তারা দেখতে পান যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের কেউ কেউ লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে পুলিশের আরো বেশি সন্দেহ হয়। পরে ওই গ্রামের সাকিব হোসেন ও নাজমুল আলম নামের দুজনকে ২৩ সেপ্টেম্বর আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার আটক করা হয় হৃদয়কে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে সব তথ্য। তাদের দেখানো জায়গা থেকেই পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে গিয়ে সাকিবদের শ্যালো মেশিনের ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

সুজনের চাচা শফিকুল ইসলাম বলেন, বছরখানেক হলো সুজনের সঙ্গে এই তিনজনের বন্ধুত্ব হতে দেখছেন তিনি। তিনি শুনেছেন মোবাইল ফোনের সূত্রে তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয়। এরপর থেকে তাদের প্রায়ই একসঙ্গে চলাফেরা করতে দেখতেন তিনি।

এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা হলেন- সাকিব হোসেন, নাজমুল আলম ও হৃদয় নিহত সুজনের বন্ধু। তাদের সবার বাড়ি পাশাপাশি গ্রামে আধা কিলোমিটারের মধ্যেই।

শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সবাই কিশোর–তরুণ। টাকার জন্যই তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শৈলকুপা থানার এসআই আমিরুল ইসলাম বলেন, বিদেশ থেকে বাবার পাঠানো টাকার লোভেই সুজনকে তার বন্ধুরা হত্যা করেন। সুজন হত্যার পুর বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করে বন্ধুরাই দুুইদিন আগেই গর্ত খুঁড়ে রেখেছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড়ে কুপিয়ে হত্যার পর সেই গর্তে নিয়ে দেহটা ফেলে মাটিচাপা দেন। 

পরিকল্পনা ছিল, বন্ধুকে পুঁতে রাখার স্থানটি ইট-খোয়া দিয়ে পাকা করে ফেলবেন। কিন্তু তার আগেই বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহের শৈলকূপার আউশিয়া গ্রামের একটি শ্যালো মেশিনের ঘরে মাটি খুঁড়ে কলেজছাত্র সুজন হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে বাড়ি থেকে জমিতে দেয়ার জন্য সার কেনার জন্য শৈলকূপা বাজারে যান সুজন হোসেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় শৈলকূপা থানায় একটি জিডি করেন তার স্বজনরা। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনার পরপরই সাকিব ও নাজমুল নামে দুইজনকে আটক করে। পরে হৃদয় নামে আরো একজনকে আটক করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস