ঠিকাদারের মামলায় আটকা তিন সড়কের সংস্কার কাজ

ঠিকাদারের মামলায় আটকা তিন সড়কের সংস্কার কাজ

মেহেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৫ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:০৬ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঠিকাদারের মামলার কারণে আটকে আছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তিনটি আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন কাজ

ঠিকাদারের মামলার কারণে আটকে আছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তিনটি আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন কাজ

ঠিকাদারের মামলার কারণে আটকে আছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তিনটি আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন কাজ। সড়ক তিনটি হলো- গাংনী উপজেলার বামুন্দী-কাজিপুর, কাজিপুর-নওদাপাড়া ও আকুবপুর-মোহাম্মদপুর হয়ে গোয়ালগ্রাম সড়ক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও ওয়ার্ক অর্ডার প্রদানে গরমিলের কারণ দেখিয়ে ঠিকাদারের মামলার কারণে গাংনীর এ তিনটি সড়কের উন্নয়ন কাজ তিন বছর ধরে বন্ধ আছে। এর ফলে সড়কে বেড়েছে খানাখন্দ। আশপাশের মানুষজনের দুর্ভোগও বেড়েছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। 

উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর অফিস (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে বামুন্দী-কাজিপুর সড়ক এক কোটি ৫ লাখ, মোহাম্মদপুর-গোয়ালগ্রাম সড়ক এক কোটি ১৩ লাখ ও নওদাপাড়া-কাজিপুর সড়ক সংস্কারে প্রায় তিন কোটি টাকার টেন্ডার হয়। টেন্ডার

হওয়ার পর ঠিকাদার আদালতে একটি খোড়া অজুহাত দেখিয়ে একটি মামলা দিলে ওই সড়কগুলোর সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। 
তবে ঠিকাদার চুয়াডাঙ্গা জেলার জাকাউল্লাহ জানান, একই দিনে ৯টা কাজের লটারি হয়। ৬টা কাজের অর্ডার দিলেও  বাকি ৩টা কাজে এলজিইডির ভুল আছে অজুহাত দেখিয়ে কাজের পুনরায় টেন্ডার করে। ফলে দরপত্র আহ্বানের পরও কার্যাদেশ না পাওয়ায় আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।

মেহেরপুর জেলা পরিষদের সদস্য ও কাজীপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মুনসুর আলী জানান, সড়ক তিনটি এই এলাকার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকা থেকে প্রতিদিনই শত শত সবজি বোঝাই ট্রাক দেশের বিভিন্ন জেলার কাঁচাবাজারে রফতানি হয়। ঢাকা যাওয়ার একমাত্র পথও ওই তিনটি সড়ক। সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। 

কাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাহাতুল্লাহ জানান, তিনটি সড়কেই ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কগুলো খানা-খন্দে পরিণত হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাস, ট্রাক, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল উল্টে মারা যাওয়াসহ অনেকেই পঙ্গু হচ্ছেন। ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। বর্তমানে ওই রাস্তাগুলো চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এ এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ধস নেমেছে।

গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী গোলাপ আলী জানান, মামলাটি প্রায় শেষের পথে। মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক যে নির্দেশনা আমাদের প্রদান করবে সে নির্দেশনা মতেই পরবর্তীতে  পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের এমপি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন জানান, যেসব কারণে আদালতে মামলা হয়েছে, তা নিরসনে এলজিইডি ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের উদ্যোগী হয়ে সমস্যার সমাধান করতে বলা হয়েছে। তারা উভয়ে আলোচনার মাধ্যমে মামলাটি দ্রত নিষ্পত্তি করে রাস্তা সংস্কার শুরু করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। 

তিনি আরো বলেছেন, এলজিডিতে যে সমস্ত কর্মকর্তা আছে তাদের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কেন বারবার  ভুল করবে এবং সে ভুলের মাশুল ঠিকাদার বা জনগণ দিবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে রাস্তা তিনটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম