শরিফায় স্বপ্ন দুলছে কৃষকের

শরিফায় স্বপ্ন দুলছে কৃষকের

মেহেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৮ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

থোকায় থোকায় শরিফায় স্বপ্ন দুলছে বাহাউদ্দীনের। শখের বশে করা শরিফা চাষ তাকে দিয়েছে সফলতা। আর বাহাউদ্দীনের স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। তার দেখাদেখি অনেকে শরিফা চাষে ঝুঁকছেন।

বাহাউদ্দীনের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চেংগাড়া গ্রামে। তিনি একজন ব্যাংকার। শখের বশে গত বছর দুই বিঘা জমিতে শরিফা চাষ করেন। লাভের মুখ দেখায় এ বছর আট বিঘা জমিতে চাষ করেন।

আট বিঘা জমিতে শরিফা চাষে বাহাউদ্দীনের প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরইমধ্যে তিন লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন তিনি। চাহিদা থাকায় এটি বাজারজাত করতেও কোনো সমস্যা নেই। বর্তমানে অনলাইনেও ফল বিক্রি করছেন।

বাহাউদ্দীনের শরিফা বাগান দেখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছেন। অনেক তরুণ-যুবক তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে শরিফা চাষ শুরু করেছেন।

বাহাউদ্দীন বলেন, বিলুপ্তপ্রায় শরিফা ফল অত্যন্ত সুস্বাদু। অনেকটা শখের বশেই স্থানীয়ভাবে বীজ সংগ্রহ করে গত বছর দুই বিঘা জমিতে শরিফা চাষ করি। সেই সময় ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল।

তিনি বলেন, এখানকার আবহাওয়া শরিফা চাষের জন্য অনুকূল। কীটপতঙ্গের আক্রমণ নেই। রাসায়নিক সারের ব্যবহারও লাগে না। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় স্থানীয় চাষি ও তরুণরা শরিফা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

শরিফা চাষের জন্য দুই বিঘা জমি প্রস্তুত করেছেন গাংনীর ভিটাপাড়ার কলেজ শিক্ষক রফিকুল আলম। এরইমধ্যে বীজ সংগ্রহ করেছেন তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জালাল উদ্দীন ও লিটন মিয়া জানান, শরিফা ফল সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। এছাড়া অনলাইনেও এর কেনাবেচা হয়। বাগান থেকে ২৫০ টাকা দরে কেজি কিনে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে লাভ হয় বেশি।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম সাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, কৃষক বাহাউদ্দীনের দেখাদেখি অনেকে শরিফা চাষ শুরু করেছেন। এ ফল আবাদে খরচ কম। রোগ বালাই একেবারেই নেই। লাভও অনেক বেশি। এছাড়া এ চাষে আরো উদ্বুদ্ধ করতে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর