অভিভাবক শূন্য নড়াইল জাতীয় পার্টি

অভিভাবক শূন্য নড়াইল জাতীয় পার্টি

নড়াইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৭ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নড়াইল জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ ঢাকায় আইন পেশায় নিযুক্ত। সাধারণ সম্পাদক মিল্টন মোল্যাও রাজধানীতে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অতিথির মতো মাঝে মধ্যে এলাকায় বেড়াতে আসেন তারা। এতে অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ে জেলা জাতীয় পার্টি।

নড়াইল চৌরাস্তা এলাকায় ছোট্ট একটি ঘরে নামসর্বস্ব সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হলেও ঘরটি সব সময় বন্ধ থাকে। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও নেই কোনো গতিশীলতা। এছাড়া সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ জুলাই অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজকে সভাপতি ও মিল্টন মোল্যাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটির অনুমোদন দেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই সময় জেলা পর্যায়ের ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করায় অনেকের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এছাড়া নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন অনেক নেতা। যা এখনো চলমান।

এদিকে দ্বিবার্ষিক এ কমিটি অনুমোদন হওয়ার পর ওই বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কমিটি বাতিলের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন জাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক জেলা সভাপতি শরীফ মুনীর হোসেনসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল, দুর্নীতিবাজ কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী সুনীল শুভ রায়ের সুপারিশে জেলায় বিতর্কিত ফায়েকুজ্জামান ফিরোজকে সভাপতি ও মিল্টন মোল্যাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৪ জুলাই জেলা জাপার কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার প্রবীণ ও ত্যাগী কোনো নেতাকর্মীকে রাখা হয়নি। বিতর্কিত ও অপরিচিত লোকদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি সিনিয়র নেতা শরীফ মুনীর হোসেন বলেন, কোনো বর্ধিত সভা, সম্মেলন না করেই গঠণতন্ত্র বিরোধীভাবে টাকার বিনিময়ে ফিরোজকে সভাপতি ও মিল্টনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অনুমোদ দেয়া হয়। জেলার অধিকাংশ সিনিয়র নেতাকর্মীরা তাদের ঘৃণা করে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের কারণে জাতীয় পার্টির অতীতের সব সুনাম নষ্ট হয়েছে।

জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ বলেন, নড়াইলের জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ঠিক ভাবেই চলছে। উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপি পর্যায়ে কমিটি রয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। এছাড়া আমি ঢাকায় ‘ল’ প্র্যাকটিস করলেও প্রতি সপ্তাহে নড়াইলে আসি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর