ভাঙতে ভাঙতে সব কিছুই শেষ

ভাঙতে ভাঙতে সব কিছুই শেষ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪২ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:১৬ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ব্যাপক নদী ভাঙন

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ব্যাপক নদী ভাঙন

মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ব্যাপক নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এর ফলে নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। 

প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে বসত-ভিটা, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয়রা নদী ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন। হুমকির মুখে রয়েছে এনায়েতপুর কাপড়ের হাট, খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মসজিদ, মাদরাসা, স্কুলসহ অনেক স্থাপনা। 

ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ বসত-বাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদী ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য এনায়েতপুরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ৬শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। প্রকল্প বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে। 

 ব্যাপক নদী ভাঙন

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরে চার দফা বন্যার পর যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করে। হঠাৎ করে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে যমুনায় পানি বৃদ্ধি পেতে  শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এনায়েতপুরে শুরু হয় ব্যাপক নদী ভাঙন। 

গত দুই দিনে শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদরাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অনেকে কিছুই সরাতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যে নদীতে ধসে পড়েছে তাদের বসতবাড়ি। অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে এনায়েতপুরের ৫টি গ্রামের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। 

বিশেষ করে চৌহালী উপজেলার দেশের সর্ববৃহৎ এনায়েতপুর কাপড়ের হাট, খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সি ইন্সটিটিউট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বহু তাঁত কারখানাসহ হাট বাজার যমুনার অদূরে রয়েছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে যমুনা পাড়ের মানুষ। সহায় সম্বল হারিয়ে নি:স্ব এসব মানুষ এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষ দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

এদিকে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে অনশন পালন করেন স্থানীয় দুই বৃদ্ধ। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই বৃদ্ধের অনশন ভঙ্গ করান। 

গত দুই দিনে শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদরাসা নদীগর্ভে বিলীন

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সদস্য ও পাকুরতলা গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, গত কয়েকদিনে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধির সময় ভাঙন ঠেকাতে জরুরি কিছু কাজ করা হলেও স্থায়ী কাজের অভাবে এখন হুমকির মুখে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল এলাকা। দ্রুত কাজ করা না হলে অস্তিত্ব বিলীন হবে বৃহত্তম একটি জনপদের। 

স্থানীয় ইয়াসিন প্রামাণিক বলেন, ৮০ বছরে ৭ বার নদী ভাঙনের কবলে পড়েছি। ভাঙতে ভাঙতে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ চাই। বাঁধ নির্মাণের দাবিতে অনশনে বসেছিলাম। পানি উন্নয়নের কর্মকর্তারা বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। নদী ভাঙনের হাত থেকে এনায়েতপুরকে রক্ষার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, কাজীপুরের পাটাগ্রাম এবং এনায়েতপুরের ব্রাক্ষণগ্রাম থেকে কৈজুড়ী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত। এই দুটি স্থানে ভাঙন রয়েছে। ভাঙন রোধে সাড়ে ১১শ’ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করি শুস্ক মৌসুমে স্থায়ী কাজ শুরু করতে পারবো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে