ভালো নেই সিরাজগঞ্জের প্রতিমা শিল্পীরা

ভালো নেই সিরাজগঞ্জের প্রতিমা শিল্পীরা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৮ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর

ঘনিয়ে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ বছর সাজ সাজ রব নেই পালপাড়াসহ জেলার পূজা মণ্ডপগুলোতে। আগামী ২২ অক্টোবর ঘরে ঘরে দেবীদুর্গার আগমনী বার্তা নিয়ে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজা। এজন্য প্রতিমা তৈরিতে কিছুটা ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা। আগামী ২৬ অক্টোবর মহাদশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

কিন্তু মহামারি করোনার কারণে এবার দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা ম্লান হতে চলেছে। বিগত বছরের পূজার সে চিরচেনা শহর ও গ্রামাঞ্চলে আলোক-সজ্জা, সাংস্কৃতিক ও আনন্দ-বিনোদন অনেকটাই লুকিয়ে থাকবে অগোচরে। সেই সঙ্গে এবারের শারদীয় উৎসবে বাইরে ঘুরতে থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশনা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে কীভাবে হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা সে অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, বেলকুচি, কাজিপুর, সদর ও চৌহালীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা।

কারিগরদের তৈরি প্রতিমা

কামারখন্দের ভদ্রঘাট পালপাড়ার প্রতিমা তৈরির কারিগর গুপিনাথ পাল বলেন,  প্রতি বছর এ সময় রাতদিন কাদামাটি দিয়ে একটু একটু করে নিপুণ হাতে ২৫-৩০টি প্রতিমা তৈরির কাজ করে থাকি। কিন্তু এ বছর মাত্র ১৫টি প্রতিমার কাজ করছি। করোনার প্রভাবে এ বছর আমাদের অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরো বলেন, কালের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসলেও পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এখনো কমারখন্দের ভদ্রঘাট ইউপির পালপাড়ায় ৩০-৩৫টি পরিবার মাঠির তৈরি প্রতিমাসহ হাঁড়ি, পাতিল, কলস, ঢাকনা ও মাটির ব্যাংক ইত্যাদি বানিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন। আমি নিজেও বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রায় ৪০ বছর যাবৎ এ পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

গোপাল চন্দ্র পাল, শংকর পাল, সুজিত পাল, রণজিত পাল, সুভাষ পালসহ প্রতিমা শিল্পীরা বলেন, বাংলা নববর্ষের চৈত্রের মেলা ও দুর্গাপূজা ঘিরে এ মৃৎশিল্পে যে আয় হয় তা দিয়ে চলে তাদের সংসার। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজার প্রস্তুতির কাজ চলছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করতে হবে। এ সম্পর্কিত ২৬টি নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের প্রত্যেকেই এ নির্দেশনা মেনে পূজা করতে হবে। এ বছর সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলার প্রায় ৪৯২টি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে।

জেলা পুলিশের এসপি হাসিবুল আলম জানান, আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে জেলাব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে নিয়মিত টহল দেয়া হবে। পাশাপাশি সবকটি পূজা মণ্ডপ গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ