দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা কনটেইনার

দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা কনটেইনার

আদনান সাকিব, চট্টগ্রাম  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৩৩ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

কনটেইনারে জম্মেছে বেশ বড়সড় বটগাছ। বের হচ্ছে বিষাক্ত বর্জ্য। যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা

কনটেইনারে জম্মেছে বেশ বড়সড় বটগাছ। বের হচ্ছে বিষাক্ত বর্জ্য। যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা

দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ড ও রেস্টুরেন্টের পাশেই পড়ে আছে তিনটি কন্টেইনার। দীর্ঘ সময় ধরে কনটেইনারগুলো পড়ে থাকার ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। দেখার যেন কেউ নেই। নষ্ট হয়ে গেছে ভেতরের মালমাল।

কনটেইনারগুলোও প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে। কনটেইনারে জম্মেছে বেশ বড়সড় বটগাছ। বের হচ্ছে বিষাক্ত বর্জ্য। যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

জানা গেছে, বন্দরের পি-শেডে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ৫ টন রাসায়নিক পণ্য ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। বিপজ্জনক মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের মধ্যে রয়েছে হাইড্রোক্লোরাইড, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, বিপজ্জনক কঠিন পদার্থ, বিপজ্জনক উপাদান, রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণের উপাদান।

আরো জানা যায়, প্রথমে এসব পণ্য নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও পরে নিলামে তোলা থেকে সরে আসে কাস্টমস হাউস। শেষ পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ এসব ‘রাসায়নিক’ ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। তবে এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ধ্বংসের কাজ বাস্তবায়ন করবে কাস্টমস— এমনই সিদ্ধান্তই হয়েছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, বন্দরের পি-শেডে বিপজ্জনক পণ্যের ৪৩টি লটসহ মোট ৪৯টি লট নিয়ে বিশেষ নিলামের আয়োজন হয় গত ৭ সেপ্টেম্বর। নিলাম আয়োজন করা ৪৯টি লটের ৪৩টিতেই রয়েছে বিভিন্ন বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্য। অন্যদিকে পচনশীল ফলমূল রয়েছে ছয়টি লটে। ৪৩টি রাসায়নিক পণ্যের মধ্যে বেশিরভাগ পণ্যই বন্দরের পি শেডের ড্রামে রাখা হয়েছে। সেখানে বিপজ্জনক এসব পণ্যের তালিকায় এমন কিছু পণ্য আছে, যেগুলো সেই ২০০০ সাল থেকেই শেডে পড়ে আছে।  

সিএন্ডএফ প্রতিনিধি মকবুল হোসেন বলেন, কন্টেইনারের পাশেই রেস্টুরেন্ট আছে। যেখানে বন্দর ব্যবহারকারী শত শত কর্মজীবী মানুষ প্রতিনিয়তই এই কন্টেইনারের পাশ ও গলি দিয়ে যাতায়াত করছে। আল্লাহ না করুন উপরের কন্টেইনারটি যদি ধসে পড়ে তাহলে অনেক মানুষ মারা যাবে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কন্টেইনার দ্রুত সরিয়ে নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তিনি আরো বলেন, চুরি হওয়ার ভয়ে একটি কন্টেইনারের উপর আরেকটি কন্টেইনার রাখা হয়েছে। এভাবে ফেলে রাখা মোটেও উচিত হয়নি। এ তিনটি কন্টেইনারের উপরে বড় গাছ উঠে যাচ্ছে। সম্পূর্ণ ড্যামেজ হয়ে গেছে কনটেইনার তিনটি।

বন্দরে কর্মরত কামাল হোসেন বলেন, এ তিন কন্টেইনারে বিপজ্জনক পণ্য থাকতে পারে। যা থেকে প্রতিদিন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পঁচা গন্ধে ওই তিনটি কন্টেইনার পাশ দিয়ে হাঁটাও যায় না।

বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারক মোহাম্মদ শামীম বক্স বলেন, বন্দরের বিপজ্জনক পণ্য থাকায় অনেক ভয়ে আছি। এসব পণ্যের কারণে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দরে কী পরিমাণ বিপজ্জনক পণ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি বন্দরের পি-শেডে ২৩ ধরনের পণ্যের মজুদ খোঁজে পায়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম বলেন, ওই তিনটি কনটেইনার মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে আছে। ধারণা করছি এই তিনটি কন্টেইনার ১০ বছর ধরে পড়ে রয়েছে। আমার জানামতে গুঁড়ো দুধ রয়েছে ওই তিন কন্টেইনারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে