আল্লামা শফীর পছন্দের দুই শিক্ষক বহিষ্কার 

আল্লামা শফীর পছন্দের দুই শিক্ষক বহিষ্কার 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৫২ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী

দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী

দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা থেকে আল্লামা শফীর পছন্দের দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে একইসঙ্গে আগে বহিষ্কৃত ৩ শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে পুনর্নিয়োগ দিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

গত সপ্তাহে হাটহাজারী মাদরাসা হওয়া ছাত্র আন্দোলেনে ছাত্রদের দাবি মানার অংশ হিসেবে তাদের সবাইকে পুনর্নিয়োগ দিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। তাদের সঙ্গে মাওলানা মনসুরুল হক নামক অপর এক কর্মকর্তাকেও পুনর্নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যিনি পূর্বে হিসাব বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

গত ঈদুল আজহার পরপরই হঠাৎ করে ওই তিন শিক্ষককে বহিষ্কার করেছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তারা হলেন মাওলানা সাঈদ আহমদ, মাওলানা আনওয়ার শাহ আজহারী ও মাওলানা হাসান।

একইসঙ্গে ছাত্রদের দাবি অনুযায়ী শাহ আহমদ শফীর সময়ে ‘বিতর্কিত নিয়োগের’ ২ শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন মাওলানা মোহাম্মদ উসমান ও মাওলানা তকি উদ্দিন আজিজ। এই নিয়ে এখন পর্যন্ত নতুন করে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে বহিষ্কার হলেন ৪ শিক্ষক। যারা সবাই শাহ আহমদ শফীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বিতর্কিত নিয়োগের শিক্ষকদের বহিষ্কারে ছাত্রদের দাবি অনুযায়ী এই ২ শিক্ষককে বহিষ্কারের কথা জানানো হলেও এই ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তুলছেন কেউ কেউ। মাদরাসা ছুটির পর থেকে অর্থাৎ গত ছয় মাসে যাদের বিতর্কিত নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের ২ জনকে মঙ্গলবার অব্যাহতি দেয়া হলেও অন্যদের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ। যাদের সবাই বর্তমান সিনিয়র শিক্ষকদের ছেলে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা সচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কওমি মাদরাসা দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় টানা দুদিনের ছাত্র আন্দোলনে মাদরাসার চিত্র অনেক কিছুই পাল্টে গেছে। মজলিসে শুরায় যোগ হয়েছে আরো ৬ জন সদস্য যারা সিনিয়র মুহাদ্দিস। পরিবর্তন এসেছে কিতাব বণ্টনেও। সব মিলিয়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেছে দেশের বৃহত্তর কওমি আঁতুড়ঘর হাটহাজারী মাদরাসা।

তবে আর কাউকে পুনর্নিয়োগ দেয়া হবে কিনা বা বিগত কত বছরের অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকদের পুনর্নিয়োগ দেয়া দেয়ার পরিকল্পনা বা সুযোগ আছে সেটা কেউ পরিষ্কার করছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে