অপহরণের ১৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি স্কুলছাত্রী, মা-বাবা পাগল প্রায়

অপহরণের ১৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি স্কুলছাত্রী, মা-বাবা পাগল প্রায়

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪১ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০  

অভিযুক্ত যুবক আরমান হোসেন

অভিযুক্ত যুবক আরমান হোসেন

কুমিল্লায় অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা।

অপহৃত ওই ছাত্রীর নাম নাদিয়া সুলতানা উর্মি। সে নগরীর নুরপুর এলাকার মাইনুল ইসলামের মেয়ে। উর্মি নগরীর ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। 

এদিকে, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় একই এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে আরমান হোসেন ও আল-আমিনকে আসামি করা হয়েছে।

নাজমা বেগম বলেন, মামলার আসামি আরমান হোসেন একজন মাদকসেবী ও বখাটে হিসেবে এলাকায় পরিচিত। গত এক বছর ধরে সে আমার মেয়েকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্যক্ত করতো। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় সে আমাদের বাড়ির সামনে আড্ডা দিতে শুরু করে। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে উর্মি আমার ভাতিজা ফরহাদ হোসেনের বাসায় যাওয়ার পথে আমাদের বাসার সামনে থেকে আরমান কয়েকজন বখাটে ছেলেকে নিয়ে আমার মেয়েকে সিএনজিযোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আর এ কাজে তাকে প্ররোচনা দেয় আল-আমিন। কিন্তু ঘটনার ১৫ দিন হলেও এখনো মেয়েকে ফিরে পেলাম না। সে কি বেঁচে আছে কি-না তাও জানি না।

ওই ছাত্রীর চাচা মোতাহার হোসেন মাহবুব বলেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের মামলা নেয়নি। তারা প্রথম দিকে কোনো সহযোগিতাও করেনি। সে সময় তারা আমাদের বলে আপনারা কোর্টে যান, সেখানে মামলা করেন। পরে আমরা আদালতে মামলা করলে আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরই মধ্যে কুমিল্লার এসপির সহযোগিতায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি এফআইআর করেছে কোতোয়ালি থানা। কিন্তু তারা আমার ভাতিজিকে উদ্ধারে তেমন কোনো তৎপরতা চালাচ্ছে না। মেয়েটা কেমন আছে জানি না। মেয়ের জন্য তার বাবা-মা এখন পাগল প্রায়।

বুধবার দুপুরে এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এসপি নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা অপহরণের মামলাগুলোকে সব সময় ফাস্ট প্রায়োরিটি দেই। ওই ছাত্রীর অপহরণ মামলাটিও আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তাকে উদ্ধারে আমাদের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এলআইসি টিমের সদস্যরাও কাজ করছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ