১২ বিয়ে করে বুক ফুলিয়ে ঘুরছেন আরেক ড্রাইভার সফিকুল

১২ বিয়ে করে বুক ফুলিয়ে ঘুরছেন আরেক ড্রাইভার সফিকুল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৪ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:১৮ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

অভিযুক্ত সফিকুল ইসলাম

অভিযুক্ত সফিকুল ইসলাম

একটি নয়, দুটি নয়, প্রতারণার মাধ্যমে ১২টি বিয়ে করে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের মাইক্রোবাস চালক শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে মারধর, বিভিন্ন  কৌশলে স্ত্রীদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ, মুখ খুললে হত্যার হুমকিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি বড় দুর্নীতি করে আলোচনায় এসেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের ড্রাইভার মালেক। এর রেশ কাটতে না কাটতেই প্রতারণার মাধ্যমে ১২টি বিয়ে করে আলোচনায় এসেছে ড্রাইভার সফিকুল।

শফিকুল উপজেলার যাদবপুর ইউপির শোলাপ্রতীমা দক্ষিণপাড়া গ্রামের নূরু মিয়ার ছেলে। গত সোমবার ওই প্রতারক স্বামীর বিচার ও স্ত্রী অধিকার চেয়ে বর্তমান পাঁচ স্ত্রীর মধ্যে তিন স্ত্রী সখীপুর থানায়, ইউএনও,  উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রেস ক্লাব ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। 

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া ইউপি কাজী অফিসে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের মেয়ে বিউটি আক্তারকে বিয়ে করেন। আট মাস পর ২০১৯ সালের ৫ জুলাই শফিকুল ইসলাম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ৫,৬,৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাজী অফিসে গাজীপুরের ভাওরাইদ গ্রামের রফিজ উদ্দিনের মেয়ে খোদেজা আক্তারকে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। এর পাঁচ মাস পর তিনি টাঙ্গাইল পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাজী অফিসে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান গ্রামের আক্কাস আলীর মেয়ে আকলিমা আক্তারকে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। এছাড়া শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগে সুমি, আঁখি, খালেদা, শিল্পী, কহিনুর, ফেরদৌসি এবং শরীফা আক্তারসহ আরো একাধিক নারীকে বিয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়।   

অভিযোগকারী বিউটি, খোদেজা ও আকলিমা আক্তার বলেন, শফিকুল প্রতারণা করে একে একে ১২টি বিয়ে করেছে। বর্তমানে আমরা তিনজনসহ তার পাঁচজন স্ত্রী আছে। তারা শফিকুলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 

অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একাধিক বিয়ে করার কথা স্বীকার করেন।  

এ ব্যাপারে সখীপুর থানার এসআই বদিউজ্জামান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। 

উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সখীপুর শাখার সভাপতি জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ