সিরাজগঞ্জে বন্যায় ক্ষতি ৬৭ কোটি টাকা

সিরাজগঞ্জে বন্যায় ক্ষতি ৬৭ কোটি টাকা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৭ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:১৯ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

চলতি মৌসুমী বন্যা দীর্ঘায়িত হওয়ায় সিরাজগঞ্জের ৭টি উপজেলার গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ছয়টি উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতরের ২৭৪ কিলোমিটার সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪৫টি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ৬০টির বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠায় এসব ক্ষতি হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা।

স্থানীয় সরকার অধিদফতর (এলজিইডি) ও শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উজানের ঢলে প্রথম পর্যায়ে যমুনা নদীতে ২৫ জুন পানি বৃদ্ধি পায়। পর্যায়ক্রমে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী, তাড়াশ ও উল্লাপাড়ার ৬০টি ইউপিতে পানি প্রবেশ করে। এতে বন্যায় কোথাও ব্রিজ-কালভাটের সংযোগ সড়ক ভেঙে বিচ্ছিন হয়ে গেছে। আবার কোথাও ভেঙে গেছে কালভার্ট। দীর্ঘায়িত পানিতে নিমজ্জিত অধিকাংশ সড়কের পিচ উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এতে ৭টি উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতরের ২৭৪ কিলোমিটার সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪৫টি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদরাসা ও ৬০টির বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠায় এ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, চলতি বন্যায় জেলায় মোট ২৭৪ কিলোমিটারের মতো গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো সব জায়গা থেকে পানি না নামায় সম্পূর্ণ ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে গেলে এখন পর্যন্ত সড়কগুলোতে যে ক্ষতি হয়েছে তাতে মেরামত বাবদ অন্তত ৬১ কোটি টাকা লাগবে। মেরামতের জন্য আমরা কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ জানান, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় জেলার ১৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ৬ কোটি টাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে গেলেই ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার করা হবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম জানান, জুনের শেষের দিকে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুরে বাড়তে থাকে। ২৮ জুন উভয় পয়েন্টেই বিপদসীমা অতিক্রম করে। এরপর ৪ জুলাই থেকে আবার কমতে শুরু করে এবং ৬ জুলাই বিপদসীমার নিচে নেমে যায়। ৯ জুলাইয়ের পর দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ১৩ জুলাই যমুনার পানি দ্বিতীয় দফায় বিপদসীমা অতিক্রম করে কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে। টানা ২৫ দিন পর ৭ আগস্ট যমুনার পানি উভয় পয়েন্টেই বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। ১১ আগস্ট পর্যন্ত কমতে থাকলেও ১২ আগস্ট থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করে। ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে বিপদসীমার কাছাকাছি চলে আসে। তবে ২১ আগস্ট থেকে আবারো পানি কমতে শুরু করে। টানা ১২ দিন ধরে কমার পর ২ সেপ্টেম্বর আবারো বাড়তে থাকে। তবে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রমের সম্ভবনা নেই। বৃষ্টিপাত কমলেই দ্রুত গতিতে পানি কমবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ