আত্রাইয়ে ১০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত 

আত্রাইয়ে ১০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত 

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৯ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:১৭ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

আত্রাইয়ে ১০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত 

আত্রাইয়ে ১০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত 

নওগাঁর আত্রাইয়ে ১০ মিনিটের ঝড়ে দুইটি গ্রামের প্রায় শতাধিক ঘড়বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার পাঁচুপুর ইউপির জগদাশ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী বিশা ইউপির ইসলামগাতী গ্রামের ওপর দিয়ে আকস্মিক এ ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। 

বুধবার সকালে ইউএনও মো. সানাউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আকস্মিক উত্তর দিকে থেকে প্রচণ্ড বেগে ঘূর্ণিঝড় এসে দক্ষিণে উপজেলার পাঁচুপুর ইউপির জগদাশ গ্রাম ও পার্শ্ববতী ইসলামগাতী গ্রামের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রায় ১০ মিনিটের এ ঘূর্ণিঝড়ে দুই গ্রামের প্রায় শতাধিক কাঁচাপাকা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। 

আরো পড়ুন >>> এক বছর ধরে বানানো ড্রাইভার মালেকের ‘আদুরে’ দরজার দাম কত?

অনেকের ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে ও ইটের ঘরের প্রাচীর ভেঙে গেছে। এ ছাড়াও বিদ্যুতের কয়েকটি খুঁটি  উপড়ে যাওয়ায় ঘটনার পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রাত থেকে বিধস্ত এলাকাবাসী খোলা আকাশে নিচে অবস্থান করছে। 

নওগাঁর আত্রাইয়ে ১০ মিনিটের ঝড়ে দুইটি গ্রামের প্রায় শতাধিক ঘড়বাড়ি বিধ্বস্ত

এছাড়া গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে অনেক বাড়ির উপর পড়েছে। এ সময় বাড়িতে থাকা তিন ব্যক্তি আহত হয়। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রাস্তার ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ায় আত্রাই থেকে সিংড়া সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থল গিয়ে গাছগুলো অপসারণ করে যোগাযোগ স্বাভাবিক করে। 

জগদাশ গ্রামের বাসিন্দা প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হঠাৎ করেই উত্তর দিকে ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসে দক্ষিণ দিকে চলে যায়। ঘূর্ণিঝড় ১০ মিনিটের মতো স্থায়ী হয়। এতে প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিনের চালা উড়ে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

আরো পড়ুন >>> হাতিয়ায় সঙ্গে সারা দেশের নৌ চলাচল বন্ধ

একই গ্রামের গ্রামের আবু বক্কর বলেন, তার ইটের বাড়ির চারটি ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। গাছ ভেঙে পড়ায় প্রাচীর ভেঙে গেছে। কিছু টিন আত্রাই নদীতে পড়ে আছে। বাকী টিনগুলো কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। পরিবার পরিজন নিয়ে রাত থেকে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। 

একই কথা বলেন জালাল উদ্দিন। তার মাটির বাড়ির টিনের ছাপড়ার চালা উড়ে গেছে। তবে কয়েকটি উড়ে যাওয়া টিন পাশেই পড়ে ছিল। সকালে গিয়ে সেগুলো নিয়ে আসছেন। বাকিগুলোর কোনো হদিস মিলেনি। এরকম ঘূর্ণিঝড় তিনি কখনো দেখেননি। প্রচণ্ড ঝড়ের সঙে বৃষ্টি। সকালে ইউএনও কিছু শুকনা খাবার দিয়েছেন। 

আত্রাইয়ের ইউএনও মো. সানাউল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে টিনের চালার ঘরগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ ও ত্রাণের চাল দেয়া হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে