গ্রামীণ ঐতিহ্য জড়ানো তিনতলা মাটির বাড়ি

গ্রামীণ ঐতিহ্য জড়ানো তিনতলা মাটির বাড়ি

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৩ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

তিনতলা মাটির বাড়ি

তিনতলা মাটির বাড়ি

শীত ও গরমের সময় মাটির বাড়ি বেশ আরামদায়ক। গ্রামের বিত্তশালীরা একসময় অনেক টাকা-পয়সা ব্যয় করে মাটির বাড়ি তৈরি করতেন। কিন্তু ইট, বালি ও সিমেন্টের আধুনিকতায় সেই মাটির বাড়ি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার নিমাইদীঘি গ্রাম। এই গ্রামে রয়েছে ৪৩ বছর আগে বানানো সাত কক্ষের তিনতলা মাটির বাড়ি।

নন্দীগ্রাম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরে থালতা মাজগ্রাম ইউপির নিমাইদীঘি গ্রামে মাটির তিনতলা বাড়িটি অবস্থিত। বাড়িটি ১২ শতক জমির ওপর নির্মিত। মাটির বাড়িতে টিনের ছাউনি দেয়া আছে। 

মাটির বাড়িটি দেখতে অনেকটা প্রাসাদের মতো। ১৯৭৬ সালে বাড়িটি নির্মাণ করেন ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ মন্ডল। তিনি শখের বসে এ বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে ইদ্রিস আলী মন্ডল বসবাস করছেন সেখানে। তবে তার এই স্মৃতি এখনো আছে।

ইদ্রিস আলী মন্ডল বলেন, মাটি, খড় ও পানি ভিজিয়ে কাদায় পরিণত করে ২০-৩০ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হয়। এ দেয়াল তৈরিতে বেশ সময় লাগে। কারণ একসঙ্গে বেশি উঁচু করে মাটির দেয়াল তৈরি করা যায় না। প্রতিবার এক থেকে দেড় ফুট উঁচু করে দেয়াল তৈরি করা হয়। কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে আবার তার ওপর একই উচ্চতার দেয়াল তৈরি করা হয়। এ ভাবে তিনতলা বাড়িটির ৩৫-৪০ ফুট উঁচু নির্মিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে মাটির তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করতে ৫ মাস সময় লাগে। তবে এই বাড়িটি সম্পন্ন করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৯ মাস। সেই সময় এর পেছনে কাজ করেছিল অর্ধশতাধিক শ্রমিক। তিনতলায় ওঠার জন্য রয়েছে মই।

বর্তমানে বাড়িটিতে ইদ্রিস আলী মন্ডলসহ তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে বসবাস করছেন। তবে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে বাড়িটি হয়ে উঠতে পারে গ্রাম বাংলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে এ বাড়িটি দেখার জন্য লোক আসে।

এ বিষয়ে থালতা মাজগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, এটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বহন করে। উপজেলার সবচেয়ে বড় তিনতলা মাটির বাড়ি এটাই। বর্তমানে মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিয়েছে ইট, সিমেন্ট, বালি ও রডের তৈরি পাকা ঘর। তবে গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক বাহক ও পর্যটকদের জন্য দৃষ্টিনন্দন দর্শনীয় স্থান নিমাইদীঘি গ্রাম।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস