‘গলায় ওড়না পেঁচালেই যে মরবে বুঝতে পারিনি’

‘গলায় ওড়না পেঁচালেই যে মরবে বুঝতে পারিনি’

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৫৪ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

স্বামী শাহীন (বামে) নিহত তামরীন নাহার পপি (ডানে)

স্বামী শাহীন (বামে) নিহত তামরীন নাহার পপি (ডানে)

‘তুই’ সম্বোধন করে বকা দেয়ায় স্ত্রী তামরীন নাহার পপির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ভয় দেখান শাহীন। এতে পপি অজ্ঞান হয়ে গেলে চোখে-মুখে ও মাথায় পানি ঢেলে হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু এর আগেই মারা যান পপি। তবে ওড়না পেঁচালেই যে স্ত্রী মারা যাবে তা শাহীন বুঝতে পারেননি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা এভাবেই স্বীকার করেন শাহীন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নান্দাইল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, শনিবার রাতে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে স্ত্রীর লাশ ফেলে পালানোর সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন শাহীন। রোববার রাতে এ ঘটনায় হত্যা মামলার পর সোমবার শাহীনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহত তামরীন নাহার পপি নান্দাইল পৌরসভার ঝালুয়া মহল্লার আবু ছাঈদ মণ্ডলের মেয়ে। শাহীনের বাড়ি একই উপজেলার আাঁচারগাও ইউপির সিংদই গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল হেলিম।

জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে শাহীনের সঙ্গে পপির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শাহীন শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। শনিবার সকালে বাড়ির অন্যরা বেড়ানোর উদ্দেশে বাইরে যান। এরপর স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয়। পরে রাত ১১টার দিকে পপিকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় টের পান প্রতিবেশীরা। কিছুক্ষণ পর খবর আসে পপি মারা গেছেন।

এদিকে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহালের সময় পপির গলার দুই পাশে আঘাতের চিহ্ন দেখে। একপর্যায়ে নিহতের স্বামীকে খোঁজ করেন পুলিশ সদস্যরা। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের গেট থেকে স্বামী শাহীনকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। প্রথমে স্ত্রীর হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। পরে রোববার রাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শাহীন দায় স্বীকার করেন। ওই রাতেই শাহীনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা আবু ছাঈদ মণ্ডল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর