পথচারী কলেজছাত্রীর চুল কেটে অশ্লীল ছবি তুলল স্বামী-স্ত্রী

পথচারী কলেজছাত্রীর চুল কেটে অশ্লীল ছবি তুলল স্বামী-স্ত্রী

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫১ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:৫৯ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

গ্রেফতার রায়হান (বামে)

গ্রেফতার রায়হান (বামে)

নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক কলেজছাত্রীর মাথার চুল কেটে নির্যাতন করেছেন এক যুবক। এ ঘটনায় মামলা হলে অভিযুক্ত রায়হানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতার রায়হান উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউপির ঝাজিরা গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। এর আগে এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বাবা।

জানা গেছে, রোববার বিকেলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন ওই কলেজছাত্রী। পথে বালাহৈর জামে মসজিদের কাছ থেকে তিন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রীকে জোর করে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান রায়হান। এরপর রায়হান ও তার স্ত্রী রূপা কলেজছাত্রীর মাথার চুল কেটে নির্যাতন করেন। প্রায় দেড় ফুট লম্বা মাথার চুল কেটে ফেলা হয় কলেজছাত্রীর। এরপর অশ্লীল ছবি তুলে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। কলেজছাত্রী বাড়ি যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী জানান, এক মাস থেকে রায়হান বিভিন্নভাবে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রাজি না হওয়ায় রোববার বিকেলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শেষে এক শিক্ষককে প্রাইভেটের টাকা দিতে গেলে বালাহৈর জামে মসজিদের কাছ থেকে রায়হান ও তার তিন বন্ধু তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেন তারা। এছাড়া দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান বলেন, কয়েকদিন আগে ওই কলেজছাত্রী আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে এক ছেলের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রস্তাব দেন। আমি বাড়ি আসার পর স্ত্রী বিষয়টি জানান। এরপর থেকে ওই মেয়েকে আমি খুঁজছিলাম। রোববার বিকেলে বালাহৈর মসজিদের কাছে দেখার পর তাকে স্ত্রীর কাছে নিয়ে যাই। তাকে চিনতে পারায় ওই ছেলেটির সম্পর্কে জানতে চাই। ছেলেটির পরিচয় না দেয়ায় আমরা তার অভিভাবককে আসতে বলি। অভিভাবক না আসায় আমার স্ত্রী তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে মাথার চুল কেটে দেন।

নিয়ামতপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, এ ঘটনায় রায়হানসহ অজ্ঞাত দুইজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বাবা। মামলার পর রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর