চরম আর্থিক সংকটে মিল মালিকরা, চান প্রণোদনা

চরম আর্থিক সংকটে মিল মালিকরা, চান প্রণোদনা

সন্তোষ চন্দ্র সূত্রধর, আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২১ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:২৭ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

চরম আর্থিক সংকটে মিল মালিকরা

চরম আর্থিক সংকটে মিল মালিকরা

ধানের সঙ্গে চালের বাজারের সামঞ্জস্য না থাকায় ব্রাহ্মণাড়িয়ার আশুগঞ্জে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন মিল মালিকরা। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাল সরবরাহ করায় চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

জানা গেছে, কেজি প্রতি ৬ থেকে ৭ টাকা লোকসান হয়েছে। এতে করে প্রতি মিলে ৬ লাখ থেকে অর্ধকোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান হয়েছে মিল মালিকদের। অব্যাহত লোকসানের মুখে পড়লে আগামী মৌসুমে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে আগ্রহ হারাবে ব্যবসায়ীরা। তাই দ্রুত এ ক্ষতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের কাছে প্রণোদনা চেয়েছেন মিল মালিকরা। 

আরো পড়ুন: তিতাসের সেই ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জামিন

কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ হাওরাঞ্চলের ধান আসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ মোকামে (হাট)। ধানের এ বাজারকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জে গড়ে উঠেছে ছোট বড় প্রায় তিন শতাধিক চাতালকল। এসব চাতালকলে প্রতিদিন অর্ধলাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয়। এ জন্য প্রতিবছর সরকার বড় একটি অংশ এ অঞ্চলের চাতালকল থেকেই চাল সংগহ করে থাকে। চলতি মৌসুমে আশুগঞ্জ উপজেলায় ২৭ হাজার ৩শ’ ৩১ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। 

এরমধ্যে ১৭ হাজার ২৭১ মেট্রিক টন সিদ্ধ ও ১০ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন আতব চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ছিল সংগ্রহের শেষ দিন। সরকার মিল মালিকদের কাছ থেকে ৯৮ শতাংশ সংগ্রহ করে। 

মুন্সি অটো রাইস মিলের সত্ত্বাধিকারী সাদ্দাম হোসেন জানান, বর্তমান ধানের সঙ্গে চালের বাজারের সামঞ্জস্য না রেখে চালের দাম নির্ধারণ করায় এই লোকসান হয়েছে ব্যবসায়ীদের। আমার ৩৮৬ টনের বরাদ্দের মধ্যে ৩ লাখ লোকসান দিয়ে চাল সরবরাহ করতে হয়েছে। 

আশুগঞ্জ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি জোবায়ের হায়দার বুলু জানান, গুদামে চাল সরবরাহ করতে গিয়ে আমাদের প্রত্যেক মিল মালিকদের ৩-৪ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে এবং প্রত্যেক ড্রায়ার মিল মালিকদের ৬০-৭০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। 

চরম আর্থিক সংকটে মিল মালিকরাআশুগঞ্জ খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া বলেন, আশুগঞ্জ উপজেলায় ২৭ হাজার ৩শ’ ৩১ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ হয়। পরে আরো অতিরিক্ত বরাদ্দ পায় ২ হাজার মেট্রিক টন। মোট বরাদ্দের ৯৮ শতাংশ চাল সংগ্রহ হয়েছে। 

আরো পড়ুন: রোহিঙ্গা বসতি: ৮ হাজার একর বনভূমি উজাড়

আশুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ময়নুল হোসেন ভূইয়া জানান, চাল সরবরাহ করে মিল মালিকদের লোকসান হয়েছে। এরমধ্যে মিল মালিকদের লোকসানের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি বিবেচনা করবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম