আমেরিকা-সুইডেনে থেকেও স্বপদে বহাল দুই শিক্ষক

আমেরিকা-সুইডেনে থেকেও স্বপদে বহাল দুই শিক্ষক

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৪ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

মাদরাসার সামনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

মাদরাসার সামনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

দুই বছর ধরে আমেরিকা-সুইডেনে থেকেও স্বপদে বহাল রয়েছেন দুই মাদরাসা শিক্ষক। এমনই অভিযোগ করেছেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউপির সিরন্দী গ্রামের খাতুনে জান্নাত মহিলা দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

দুই শিক্ষক হলেন- ওই মাদরাসার আরবি শিক্ষক মাওলানা আতাউর রহমান ও ইংরেজি শিক্ষক রেশমা আক্তার। অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদরাসা সুপার মাওলানা মুরাদ হোসেন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোনাজের হোসেনকে ম্যানেজ করেই ওই দুই শিক্ষক স্বপদে বহাল রয়েছেন।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে স্থানীয় সিরন্দী গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে খাতুনে জান্নাত মহিলা মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে ধার-দেনা করে চলার একপর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। মাওলানা মুরাদ হোসেন সুপার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কোনো আলোর মুখ দেখেনি। বারবার সরকারি বরাদ্দ পেলেও মাদরাসা সুপার ব্যাপক অনিয়ম করেছেন।

খাতুনে জান্নাত মহিলা দাখিল মাদরাসা

ইউপি সদস্য আবদুর রহমান দুলাল বলেন, মাদরাসা সুপার মাওলানা মুরাদ হোসেনের কাছে বারবার প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলেও কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এছাড়া ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি ওই দুই শিক্ষককে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মাদরাসায় উন্নয়নের জন্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের ছোট ছোট প্রকল্প নিতেন মাওলানা মুরাদ হোসেন। কিন্তু কোনো কাজ না করে একাই প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেন।

খাতুনে জান্নাত মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মুরাদ হোসেন বলেন, ওই দুই শিক্ষক করোনাকালীন, মাতৃত্বকালীন, মেডিকেলসহ সব ধরনের ছুটিতে রয়েছেন। হুট করে কোনো শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা সম্ভব নয়। গত এক মাস আগ থেকে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের বেতন-ভাতা স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই দুই শিক্ষককে তড়িঘড়ি করে কারণ দর্শানোর নোটিশ করলে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। তাই একটু ভেবেচিন্তে কাজ করতে হবে।

রামগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোনাজের হোসেন বলেন, আমার জানা মতে শিক্ষকরা এক টানা তিন বছর ছুটি নিতে পারেন। তবে ওই সময়ের ভেতরেই কর্মস্থলে যোগদান করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ছুটিতে থাকার সময় কোনো বেতন-ভাতা নেয়া যাবে না।

রামগঞ্জের ইউএনও তাপ্তি চাকমা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর