পিরোজপুরে তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের ক্রিকেট ব্যাট

পিরোজপুরে তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের ক্রিকেট ব্যাট

ইমন চৌধুরী, পিরোজপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৬ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। টি-টোয়েন্টি হোক আর ওয়ানডে বা টেস্ট ম্যাচ হোক ক্রিকেট খেলতে ব্যাটের বিকল্প নেই। জনপ্রিয় এ খেলার প্রধান উপকরণ ক্রিকেট ব্যাট, যা তৈরি হচ্ছে পিরোজপুরের নেসারাবাদ উপজেলার বিন্না গ্রামে।

এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশ্বমানের ক্রিকেট ব্যাট তৈরি হলেও নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে এ শিল্পটি। সরকারের সহযোগিতা পেলে সারা বিশ্বে রফতানি হবে বিন্না গ্রামের ব্যাট।

নেসারাবাদ উপজেলা সদর থেকে ৫-৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বেলুয়া নদীর পূর্বপাড়ে বিন্না গ্রামটি। একেবারে আধুনিক সময়ের নাগরিক খেলা ক্রিকেটের সেই ব্যাট প্রায় ৩০ বছর ধরে তৈরি হচ্ছে এখানকার ছায়া ঘেরা বাড়ির ঘরোয়া কারখানায়। অন্যান্য গ্রামে কারখানা থাকলেও ব্যাট তৈরির সূচনা হওয়ায় বিন্না গ্রাম ‘ব্যাটের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিক।

রোদে শুকানো হচ্ছে ব্যাট

এদিকে, এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কাঠের বাজার এ উপজেলাতেই রয়েছে। এছাড়া প্রচুর গাছ-গাছালি থাকায় এবং কাঠের সহজলভ্যতা ও শ্রমমূল্য কম হওয়ায় এ উপজেলায় প্রসার ঘটে ব্যাট তৈরির কারখানার।

বিন্নাকে অনুসরণ করে কারখানাগুলো একে একে ছড়িয়ে পড়ে চামি, ডুবি, আদর্শ, বয়া, পঞ্চবেকী ও আউরবুনিয়া গ্রামে। নেসারাবাদের তৈরি ব্যাট মানসম্মত ও কিছুটা সস্তা হওয়ায় দেশজুড়ে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে এখান থেকে ব্যাট কিনে নেন।

ব্যাট কারিগর সোহেল মাঝি ও নুরু মোল্লা বলেন, দেশে ভারত ও পাকিস্তানের ব্যাট আমদানি বন্ধ করে আমাদের ব্যাট কিনলে অনেক লাভবান হবো। এছাড়া এ শিল্প অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

নেসারাবাদ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, বিন্না গ্রামে প্রায় ৩০ বছর ধরে তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের ক্রিকেট ব্যাট। এ শিল্পকে আরো উন্নতমানের করতে উপজেলা পরিষদ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

ব্যাট তৈরির কারখানা

সাতটি সাইজে বিভিন্ন স্তরে তৈরি হয় এ ব্যাট। প্রথমে স’মিলে সাইজ মতো গাছ কেটে ব্যাটের মূল অংশটি তৈরি করা হয়। আর তিনটি অংশ একত্রিত করে তৈরি হয় ব্যাটের হাতল। পরে মূল অংশের ত্রিকোনা আকৃতির মাঝে হাতল দিয়ে ব্যাট তৈরি করা হয়। এরপর চলে ফিনিশিংয়ের কাজ। আর লেভেলিংয়ের কাজ হয় পাইকারি বিক্রির পর।

নিজ নিজ কোম্পানি তাদের স্টিকার লাগিয়ে তৈরি করে নেন দৃষ্টিনন্দন ব্যাট। এ গ্রামে তৈরি বিভিন্ন সাইজের ব্যাটের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ০ (শূন্য) সাইজের ব্যাটটি বিক্রি হয় ৩০-৩৫ টাকায়। আর সবচেয়ে বড় ৬ নম্বর সাইজের ব্যাট বিক্রি হয় ৩০০-৩৫০ টাকায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর