মেয়ের আর্তনাদ, ‘ওরা আমার ভালো আব্বাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে’

মেয়ের আর্তনাদ, ‘ওরা আমার ভালো আব্বাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে’

রাজশাহী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০০ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ট্রাক ড্রাইভার আবু তালেবের পরিবার

ট্রাক ড্রাইভার আবু তালেবের পরিবার

নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ট্রাক ড্রাইভার আবু তালেব। সোমবার সকালে তার বাড়ি গিয়ে দেখা যায় আর্তনাদ করছেন তার পরিবার পরিজন।

কান্নাজড়িত কন্ঠে উষা বলেন, ওরা কেমন মানুষ যে আমার ভালো আব্বাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে! এখন আমরা কার কাছে যাবো? কে আমাদের ভাই-বোনদের আদর করে খাবার জিনিস কিনে দিবে? আব্বা মরে যাওয়ায় আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।

প্রতিবেশীরা ঊষাকে সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তার প্রশ্নের কোনো উত্তর কারো কাছে নেই।

বড় মেয়ে উষা খাতুন ঝলমলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট মেয়ে ইতি এ বছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। আর সবার ছোট ছেলে ইসরাফিলের বয়স মাত্র ১১ মাস।

নিহত আবু তালেবের স্ত্রী নারগিস বেগম বলেন, তিনি খুব ভালো মনের মানুষ ছিলেন। প্রতি মাসে চারবার ট্রাক নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেতেন। ছেলে-মেয়ের কথা মনে পড়লেই ২/৩ দিনের মধ্যে আবার বাড়ি চলে আসতেন। বাড়িতে ফিরলে তিনি সারাক্ষণ বাচ্চাদের বিভিন্ন বায়না মেটানো ও তাদের সাথে খেলা করে সময় পার করতেন। ঘরে দু’বেলা খাবার না থাকলেও তিনি সন্তানদের কখনো অভাব বুঝতে দেননি। 

এবার তিনি বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে গেছেন প্রায় এক সপ্তাহ আগে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি ফোনে সন্তানদের বলেছেন রাতে বাড়ি আসবেন। তিনি পরের রাতেই বাড়িতে এসেছেন তবে লাশ হয়ে। ওই মানুষ গুলো কি নির্মমভাবেই না ওদের বাবাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। তার লাশ যখন বাড়িতে আনা হলো তখন বড় মেয়ে শেষ দেখা দেখতে পেয়েছে। আর ছোট মেয়ে ও ছেলে ঘুমিয়ে থাকায় বাবাকে আর দেখতে পারেনি। 

তিনদিন থেকে ছোট মেয়েটা বাবার অপেক্ষায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। সে এখনো বুঝতে পারছে না যে তার বাবা আর কখনো ফিরে আসবেন না। আর ছেলের তো এখনো কোনো অনুভব হয়নি। এই শিশুদের নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব। কী করবো? আমার চারদিকে শুধু অন্ধকার হয়ে আসছে।

এরআগে, শুক্রবার রাত ৯টায় চালক আবু তালেব বাগমারার ভবানীগঞ্জ থেকে ট্রাক বোঝাই মালামাল নিয়ে পুঠিয়ার দিকে আসছিল। পথে তাহেরপুর এলাকায় আসামাত্র ট্রাকের চাপায় ছাগল মারা যায়। এরপর ওই এলাকার ২০/২৫ জনের একটি দল মোটরসাইকেলে ট্রাকটিকে ধাওয়া করে বাসুপাড়া এলাকায় আটক করে। পরে তারা চালক আবু তালেবকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয় লোকজন ট্রাক চালককে মুমূর্ষ অবস্থায় পুঠিয়া হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো অজ্ঞাতনামা ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে আটক করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস