মেঘনার ভাঙনে বিলীন শত শত ঘর-বাড়ি

মেঘনার ভাঙনে বিলীন শত শত ঘর-বাড়ি

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২৩:৪৯ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২৩:৫১ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শত শত ঘর-বাড়ি

নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শত শত ঘর-বাড়ি

নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শত শত ঘর-বাড়ি। হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন গ্রাম। এতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ঘর-বাড়ি হারানো মানুষ। 

মেঘনায় যত্রতত্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার ফলে নদী ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।  

অবৈধ বালু তোলার ফলে রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদীর ভাঙন ক্রমেই রুপ নিচ্ছে ভয়াবহতায়। এরইমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। নতুন করে হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলার পাড়াতলী ইউপির কাচারিকান্দি, মজিদপুর, মনিপুর এবং মির্জাচর ইউপির মির্জাচর বাজারসহ বেশকটি গ্রাম। 

হুমকির মুখে রয়েছে পার্শ্ববর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীপুর ইউপির চরলাপাঙ্গ, বড়িকান্দিসহ বেশ কটি গ্রামের শত শত বাড়িঘর, গাছপালাসহ ফসলি জমি। 

নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদীর ভাঙন

দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু তোলায় অব্যাহত নদী ভাঙনের ফলে বসত-ভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করছেন এসব এলাকার মানুষ। 

স্থানীয়রা জানান, চাঁনপুর ইউপির পূর্ব হোসেননগর মৌজায় জয়বাংলা ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানকে বালুমহাল ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। 

অভিযোগ রয়েছে, বালু মহালের ইজারাদাররা নির্ধারিত স্থান থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পাড়াতলী ইউপির বিভিন্ন গ্রামে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মেঘনার তীরবর্তী এলাকা থেকে বালু তোলার কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

নদী গর্ভে বসত-ভিটা ও ফসলি জমি হারানো মো. জামাল উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে নিয়ে অবৈধভাবে নির্ধারিত স্থান ছেড়ে গ্রামের পাশে এসে বালু তুলছেন ইজারাদাররা। 

মেঘনার তীরবর্তী এলাকা থেকে বালু তোলার কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে

এছাড়া প্রভাবশালী কাইয়ূম, সামসু মেম্বারসহ আরো অনেনে এসব অবৈধ বালু তোলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় এরইমধ্যে নরসিংদী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রসাসকের ধারস্থ হওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও কোনো সামধান পাওয়া যায়নি। 

মেঘনা নদীর ভাঙন ক্রমেই রুপ নিচ্ছে ভয়াবহতায়

নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন জানিয়েছেন, সরকারি বিধি মেনে বালু মহাল ইজারা দিয়ে থাকে প্রশাসন। তবে ইজারা প্রদান কিংবা বাতিলের সর্বময় ক্ষমতা রাখে জেলা প্রশাসন। যদি বালু মহালের কারণে নদী ভাঙনের সৃষ্টি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে বালুমহাল বন্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এরইমধ্যে পূর্ব হোসেন নগর বালু মহালটির ইজারা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে