হিলির বাতাসে এখন শুধু পচা পেঁয়াজের দুর্গন্ধ

হিলির বাতাসে এখন শুধু পচা পেঁয়াজের দুর্গন্ধ

দিনাজপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:১৩ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

দেশের চাহিদার বেশির ভাগ পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি হয় এই বন্দর দিয়ে। প্রতিবছর চাহিদার কথা মাথায় রেখে ও বাজার স্বাভাবিক রাখতে ২ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করে থাকেন হিলির আমদানিকারকরা। চলতি বছরের ৬ জুন থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ৩ মাসে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ৫৭ হাজার মেট্রিক টন। 

পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও বন্যা ও উৎপাদন সংকট দেখিয়ে হঠাৎ ১৪ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। রফতানি বন্ধের পর ভারতের অভ্যন্তরে টানা ৫ দিন দাঁড়িয়ে থাকে দুই শতাধিক পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে শনিবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১১ ট্রাকে ২৪৬ মেট্রিক টন পিয়াজ আমদানি হয়। আর এসব পেঁয়াজ অতিরিক্ত গরমে বেশির ভাগ পচে গেছে। পচা পেঁয়াজ রাখা হয়েছে হিলির বিভিন্ন আড়তের সামনে। এতে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী ও এলাকাবাসী। 

এদিকে আড়াই হাজার টাকা দামের পেঁয়াজের বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১শ টাকা দরে। এরপরেও কিনছেন না অনেকে। কেউ কেউ ফেলে দিচ্ছেন বস্তাসহ পেঁয়াজ। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

আড়ৎগুলোতে দেখা যায়, শনিবার ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজগুলোর বেশির ভাগ গরমে পচে গিয়ে পানি ঝরছে। দুর্গন্ধ ছড়ানোয় রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে পথচারীদের। অন্যদিকে লোড-আনলোড এর কাজ করতেও অনীহা প্রকাশ করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। আর পচা পেঁয়াজ প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দরে। যার স্বাভাবিক বাজার মূল্য আড়াই হাজারের বেশি।

এদিকে, পেঁয়াজ আসার পর হিলি স্থলবন্দরের খুচরা ও পাইকারি বাজারে কমলেও দিনাজপুরের বাজারে এলসি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার বন্যার কারণে উৎপাদন সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এতে করে টেন্ডারসহ এলসিকৃত পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ৫ দিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকার পর শনিবার ভারত সরকার টেন্ডার হওয়া ১১টি ট্রাকে মোট ২৪৬ মেট্রিকটন পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দেন এবং তা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। তবে যে সব পিয়াজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে তার ৫০ শতাংশ পেঁয়াজ অতিরিক্ত গরমে পচে গেছে। এসব পেঁয়াজ প্রতি বস্তা ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং একটু ভালো মানের পেঁয়াজ প্রকার ভেদে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন জানান, আমদানি করা পেঁয়াজের আমদানিকারকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। শনিবার পেঁয়াজ আসা ১১ ট্রাকের মালামালে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ক্ষতি হবে আমদানিকারকদের। ভারত সরকারের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আর পেঁয়াজের ট্রাক আসবে না।

তিনি আরো জানান, এখনো অনেক পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান করছে। সেই সব পেঁয়াজ নিয়ে আমদানিকারকরা দুশ্চিন্তায় আছেন।


 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ