ছোট বোনকে হত্যার পর বড় বোনকে ফ্যানে ঝুলালো ভয়ংকর প্রেমিক

ছোট বোনকে হত্যার পর বড় বোনকে ফ্যানে ঝুলালো ভয়ংকর প্রেমিক

রংপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৪৪ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:২৬ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রংপুরে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় প্রেমিককে নিয়ে ছোট বোনকে হত্যা করেন বড় বোন। একপর্যায়ে বড় বোনকে হত্যা করে ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখেন ভয়ংকর প্রেমিক। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এমন তথ্যই পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, সুমাইয়া আক্তার মীম ও জান্নাতুল মাওয়া আপন চাচাতো বোন। তারা একই বাসায় থাকতেন। জান্নাতুল মাওয়ার বাবা-মা কুড়িগ্রামের উলিপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে যান। আর মীমের মা-বাবা বাইরে থাকায় শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মীমের বাসায় আসেন প্রেমিক মাহফুজার রহমান রিফাত। কিছুক্ষণ পর জান্নাতুল মাওয়া ঘরে ঢোকেন। এ সময় মীম ও তার প্রেমিক রিফাতকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে বিষয়টি তার মা-বাবাকে বলে দেয়ার হুমকি দেন।

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রেমিক রিফাতকে নিয়ে জান্নাতুল মাওয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মীম। বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মুখে বিষ ঢেলে দেয়া হয় এবং ব্লেড দিয়ে গলার কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনার পর রিফাতের সঙ্গে মীমের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মীমকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ফ্যানে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান রিফাত।

দুপুর দেড়টার দিকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো মীমের লাশ এবং জান্নাতুল মাওয়াকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় দেখে প্রতিবেশীরা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপর দুই বোনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শুক্রবার নিহত মীম ও জান্নাতুল মাওয়ার বেশ কয়েকজন স্বজনসহ ১০-১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে দুই বোনের সঙ্গে কারো প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না, বিভিন্ন বিষয় তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে মীমের মোবাইল ফোনে পাওয়া রিফাতের নম্বরে বিভিন্ন সময়ে কথা বলা এবং হত্যাকাণ্ডের আগে তাদের বাসায় আসার আগেও কথা হওয়ার বিষয়টি তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

পরে শনিবার নগরীর মধ্য বাবু খাঁ মহল্লা থেকে রিফাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রিফাতের সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না, কোনো ঘটনা নেপথ্যে আছে কি না পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

এডিসি (ডিবি) উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, আমরা রিফাতকে গ্রেফতার করেছি। তার কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর