গার্মেন্টসে নাকি, কলেজ যাবে মেধাবী আয়েশা?

গার্মেন্টসে নাকি, কলেজ যাবে মেধাবী আয়েশা?

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৪ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:২২ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

মেধাবী ছাত্রী আয়েশা

মেধাবী ছাত্রী আয়েশা

করোনায় ঋণগ্রস্ত পরিবারের মেধাবী ছাত্রী আয়েশা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সংসারের অভাব মেটাতে লেখাপড়া ছেড়ে গামেন্টসে চাকরি নিয়েছেন তিনি। তবে তার পরিকল্পনা ছিল এসএসসি পাস করে ভালো একটি কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাবেন। অথচ করোনা মহামারিতে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট!

আয়েশা আক্তার সিদ্ধিরগঞ্জের রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে চলতি বছর জিপিএ-৪.৬৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। এখন কলেজে পড়বেন নাকি গার্মেন্টসে চাকরি করবেন, এ নিয়ে শঙ্কিত আয়েশা।

টাঙ্গাইল সদর থানার বিন্নীপুরে তাদের দাদার বাড়ি। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পিএম একাডেমি মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তার পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। মা রওশন আরা আদমজী ইপিজেডের ইউনেসকো গার্মেন্টসে সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতনে ফিনিশিং অপারেটরের চাকরি করতেন। বাবা মাসুদ রানা করতেন রড মিস্ত্রীর কাজ। তার ছোট বোন মরিয়ম আক্তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সব কিছু ঠিকভাবেই চলছিলো। কিন্তু তার মা ২০১৮ সালে অসুস্থ হয়ে পড়ায় চাকরি ছেড়ে দেন। সেই থেকেই তাদের পরিবারে বিপর্যয় নেমে আসতে শুরু করে। যার শেষ পরিণতি ডেকে আনে করোনা।

গত ২৩ আগস্ট আয়েশার বাবা কাঁচপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে আর ঘরে ফিরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে আয়েশার মা রওশন আরা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। উপার্জন না থাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার করে আয়েশার মা সংসার পরিচালনা করতেন। একদিকে আয়েশার বাবা নিখোঁজ, আরেক দিকে ঋণের বোঝা। দুইয়ে মিলে মা রওশন আরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় আয়েশার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে আয়েশা আক্তারের বলেন, আমি লেখাপড়াটা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন গার্মেন্টসে চাকরি করলে আমার পক্ষে কলেজে ক্লাস করাও সম্ভব না। তবে লেখাপড়া শেষ করে আমি ভালো একটা চাকরি করে আমার অসুস্থ মাকে সুস্থ করতে চাই এবং আমার ছোট বোনকে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই। করতে চাই বাবার সন্ধানও।

তিনি আরো বলেন, আমি যদি অর্থনৈতিক সমস্যা কাটিয়ে পড়ালেখা করতে পারি, তাহলে সমাজের যারা অর্থের অভাবে পড়ালেখা করতে পারছে না, তাদেরকে আমি আর্থিক সাপোর্ট দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করবো।

গার্মেন্টসে চাকরির ব্যাপারে আয়েশা বলেন, আমি আসলে চাকরি করতে চাই না। আমি যদি চাকরি না করি তাহলে আমাদের সংসারের খরচ বহন করবে কে? আমার তো বড় ভাইও নেই।

আয়েশার মা রওশন আরা বলেন, প্রায় ২০ দিন ধরে আমার স্বামী নিখোঁজ। আশপাশের এলাকাসহ গ্রামের বাড়িতেও খোঁজ করে তার কোনো সন্ধান পাইনি। 

বড় মেয়ে আয়েশাকে লেখাপড়া করানোর ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েকে লেখাপড়া করানোর ইচ্ছা আমার এখনো আছে। সংসারে অভাব থাকায় সে এখন চাকরি করছে। গত কয়েক মাসে আমাদের এক লাখ টাকার মতো ঋণ হয়ে গেছে। আমার মেয়ে চাকরি না করলে আমাদের রাস্তায় নামতে হতো।

রেকমত আলী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, আয়েশা মানবিক বিভাগ থেকে ভালো ফলাফল করেছে। আমার বিশ্বাস লেখাপড়ার ব্যাপারে কেউ তাকে সহযোগিতা করলে সে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ