করোনায়ও থেমে নেই মেয়র লিপন

করোনায়ও থেমে নেই মেয়র লিপন

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৯ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

হাজীগঞ্জ বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করছেন মেয়র লিপন

হাজীগঞ্জ বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করছেন মেয়র লিপন

গাড়ির সামনের সিটে থাকে কয়েকটি ব্যাগ। গাড়ির পেছনে থাকে চাল, ডাল, আলু ও তেলসহ কয়েকটি ত্রাণের বস্তা। তার উপর লেখা প্রধানমন্ত্রীর উপহার। সড়কে যাকে মাস্কবিহীন চলতে দেখেন তার হাতে ধরিয়ে দেন একটি করে মাস্ক। বিতরণ করেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। অসহায় দুস্থলোক দেখলে ছুটে যান তাদের কাছে, হাতে ধরিয়ে দেন ত্রাণের একটি বস্তা। কখনো কখনো নিজেই সেসব ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন মানুষের ঘরে ঘরে। বাজার পরিচ্ছন্নকর্মীদের সঙ্গে সড়কে নেমে বাজার ঝাড়ু দিচ্ছেন। আবার কখনো কখনো নিজেই সড়কে নেমে জীবাণুনাশক পানি ছিটাচ্ছেন। শিশুদের দেখলে টেনে নেন কোলে বাবার স্নেহে তাদের হাতে তুলে দেন চকলেট।

তিনি হচ্ছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন। এ মানুষটি বৈশ্বিক মহামারির দুঃসময়ে পৌরবাসীর সেবা করে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

প্রতিদিন সকালে নিজেই হেঁটে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো ঘুরে দেখেন লিপন। হাজীগঞ্জ বাজারের আনাচে-কানাচে হাঁটেন হ্যান্ডমাইক হাতে নিয়ে, মানুষকে সচেতন করে তোলেন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে। তার এ ছুটে চলা চলছে প্রতিনিয়ত। করোনার প্রকোপ ধীরে ধীরে কমলেও তার কাজের পরিধি কমেনি একটুও।

স্থানীয়ভাবে তিনি লিপন ভাই নামেই পরিচিত। হাজীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সফল রাজনীতিবিদ, সফল সমাজসেবক হিসেবে এরই মধ্যে পৌরবাসীর মন জয় করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, চলমান করোনাভাইরাসের সংকটের মধ্যে শহরের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সাধারণ মানুষের পাশে দেখা না গেলেও লিপন ভাই একাই কাজ করে চলেছেন। এলাকার ছিন্নমূল ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া ছিল নিত্য দিনের কর্ম।

পৌরসভায় গিয়ে তিনি প্রথমে বেরিয়ে পড়েন মশক নিধন অভিযানে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে গিয়ে নিজ হাতে স্প্রে করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকে পৌরসভার কর্মচারীরা ছাড়াও ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মী। এরপর তিনি পৌরসভায় ফিরে দাফতরিক কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যার পর শুরু করেন ত্রাণ বিতরণের কাজ।

মাহবুব-উল আলম লিপন বলেন বলেন, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই পৌরবাসীর জন্য কিছু করার চেষ্টা করছি। শহরে বিভিন্ন অলি-গলিতে ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি ছিটাই। সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত প্রচার-প্রচারণা চালাই। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, ত্রাণ ও অর্থ বিতরণ করে আসছি।

তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনের এমপি আমাদের অভিভাবক মেজর অব. রফিকুল ইসলাম (বীরউত্তম) এর নির্দেশক্রমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতায় এক লাখ হ্যান্ডবিল ও পাঁচ হাজার কেজি সাবান বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এমপির ৬০০ প্যাকেট ত্রাণ (চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তৈলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য) পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে সমানভাবে বণ্টন করেছি।

হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মকিমাবাদ গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরে মেয়র পৌরসভার লোকজন নিয়ে মশক নিধনে কাজ সুনাম অর্জন করেছে। এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এর আগে কোনো মেয়রকে এভাবে কাজ করতে দেখিনি। পৌরসভায় আগে মশার অনেক উপদ্রব ছিল। এখন তা কমে এসেছে। নিয়মিত পরিষ্কার করলে মশা আরো কমে আসবে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রুহিদাস বনিক বলেন, বাজারে আগের মতো ময়লা আবর্জনা দেখ যায় না। রাতেই সব পরিষ্কার করা হয়। এটা পৌর মেয়রের একটা ভালো দিক। বর্ষা মৌসুমে হাজীগঞ্জ বাজারে হাঁটু পানি জমতো এখন আর আগের মতো পানি জমে না।

পৌরসভার সূত্রে থেকে জানা যায়, পৌর এলাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত প্রায় ৮ হাজার ৯৩৮ জন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষের বাড়িতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে মেয়র নিজেই। বাকিদেরকে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপহার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে বিকাশের মাধ্যমে পেয়েছেন ১ হাজার ৮০০ জন। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এ টাকার তালিকা করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবায়েদুর রহমান খোকন বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত লিপন ভাই পুরো পৌর এলাকা ঘুরে মানুষের জন্য কাজ করেন। কখনো কখনো ছাত্রনেতারাও তার সঙ্গে থাকেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ