নড়াইলের ইছামতি বিল এখন ‘মিনি পর্যটনকেন্দ্র’

নড়াইলের ইছামতি বিল এখন ‘মিনি পর্যটনকেন্দ্র’

নড়াইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৭ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ইছামতি পদ্মবিলে নৌকায় ঘুরছেন দর্শনার্থীরা

ইছামতি পদ্মবিলে নৌকায় ঘুরছেন দর্শনার্থীরা

টলমলে পানিতে ফুটে আছে বাহারি রঙের হাজারো পদ্ম। ফোটার অপেক্ষায় আছে আরো অজস্র ফুল। পদ্মের গোলাপী চাদরে ঢেকে গেছে পানি। আবার পদ্মের মাঝে বসেই দেখা যাচ্ছে সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য। এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউপির ইছামতি বিলে।

পদ্মবিলের এ সৌন্দর্য ও সৌরভ উপভোগ করতে মনের মানুষ, পরিবার পরিজন নিয়ে সেখানে আসছে শত শত মানুষ। পদ্মের এই সৌরভ ছড়িয়ে গেছে জেলার বাইরেও। দূর দূরান্ত থেকে শত শত মানুষের আগমনে ইছামতি এখন ‘মিনি পর্যটনকেন্দ্র’।

ইমরান নামে মাগুরা থেকে আসা কলেজছাত্র বলেন, এই বিলের পদ্ম ফুলের ছবি ফেসবুকে দেখে এখানে এসেছি। এখন দেখছি ফেসবুকে যা দেখেছি তার চেয়েও এটা অনেক সুন্দর।

নড়াইল শহরের গৃহিণী লায়লা সুমন জানান, করোনার এই সময় পদ্মবিল আমাদের জন্য অন্যরকম শোভা বিছিয়ে রেখেছে। বিলের মধ্যে নৌকায় ঘুরে পদ্মফুলের সৌন্দর্য দেখা, এ এক অন্যরকম অনুভুতি। বারবার এখানে আসতে চাই।

প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থীদের যাতায়াতে একমাত্র ভরসা স্থানীয় জেলে নৌকা। পুরো পদ্মবিল ঘুরে দেখতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগে। নৌকায় ঘণ্টাপ্রতি ভাড়া নেয় ২০০ টাকা। আবার সম্পূর্ণ বিল ঘুরে দেখতে নৌকা মালিকরা নেন মাত্র ৫০০ টাকা।

মাঝি বিপ্লব বাওলায়ী বলেন, এই পদ্মফুল দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছে। দিনে ৪-৫ বার করে একেকটি নৌকা দর্শনার্থীদের নিয়ে বিলে যায়। ভালো টাকাই আয় হচ্ছে। রাতে বিলে মাছ ধরি আর দিনভর দর্শকদের নিয়ে বিলে যাই।

স্থানীয়রা জানায়, বিলের কয়েকটি মাছের ঘেরে পদ্মফুল ফুটতো। ঘের পরিষ্কার করে ফুলগুলো বিলের পানিতে ফেলে দেয়া হয়। ঘেরের বাঁধন থেকে মুক্ত হয়েই বিস্তৃত ইছামতি বিলে ছড়িয়ে পড়েছে এসব পদ্মফুল।

নলদী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পাখি বলেন, ইছামতি বিলের পদ্মই এখন জেলার প্রধানতম বিনোদন স্থান। আমাদের জন্য এই পদ্মফুল আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। এখানে বিভিন্ন জেলার মানুষে ঘুরতে আসছে। এই পদ্মবিল যেন নষ্ট না হয় সেই ব্যবস্থা করবো।

নড়াইল শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে লোহগড়া উপজেলার মিঠাপুর-লাহুড়িয়া সড়কের পাশেই বিল ইছামতি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর