ভাঙন আতঙ্কে তিন লক্ষাধিক মানুষের নির্ঘুম রাত 

ভাঙন আতঙ্কে তিন লক্ষাধিক মানুষের নির্ঘুম রাত 

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১১ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে

চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে

দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউপির জনতা বাজার সংলগ্ন কাচারীকান্দি এলাকা দিয়ে মেঘনা নদী লাগোয়া মূল বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে অল্প সময়ের মধ্যে নদী তীরবর্তী বাঁধের অংশের ২০০ মিটার অঞ্চল ভেঙে নদীতে বিলীন হতে থাকে।

এদিকে ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। একপর্যায়ে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় কয়েক শতাধিক যুবক নিজ উদ্যোগে ৭ থেকে ৮ ট্রলি গাড়িতে করে স্থানীয় জনতা বাজার, চরমাছুয়া এলাকায় বাঁধ রক্ষার কাজে প্রস্তুত করা কয়েক সহস্রাধিক জিও টেক্সটাইল বালির বস্তা এনে বাঁধ রক্ষায় নেমে পড়েন। তারা তাৎক্ষণিক রাত ৩টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষায় চেষ্টা চালান।

অপরদিকে ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে সেচপ্রকল্পের তিন লক্ষাধিক মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। 

কাচারীকান্দি এলাকার বাসিন্দা হাসমত বেপারী, কলিম উল্লাহ ও খোদেজা বেগম জানান, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হঠাৎ করে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। আর বাঁধের মধ্যে প্রায় সাত লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করে। হঠাৎ করে ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সবার মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়। তাই সারা রাত বাঁধের কয়েক লাখ মানুষ না ঘুমিয়ে কাঁটিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউপির জনতা বাজার সংলগ্ন কাচারীকান্দি এলাকা দিয়ে মেঘনা নদী লাগোয়া মূল বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে নদী তীরবর্তী অংশের ২০০ মিটার অঞ্চল ভেঙে নদীতে বিলীন হতে থাকে। পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙন ক্রমশ আরো বাড়তে থাকে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধের ব্যাপক অংশ ভেঙে যায়। তবে বর্তমানে মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ৪ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

খবর পেয়ে শনিবার সকালে চাঁদপুর-২ নির্বাচনী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিওন) কাজী তোফায়েল হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী (পূর্বাঞ্চল, কুমিল্লা) জহির উদ্দিন আহমেদসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি নুরুল আমিন রুহুল বলেন, এই বেরীবাঁধটি মতলবের প্রায় ৭ লক্ষ জনগনের জীবনের নিরাপত্তা। এই বাঁধ ভেঙ্গে গেলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেত। তাই তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ও মেঘনা-ধনাগোদা সেচপ্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের দ্রæত ভাঙন স্থান মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য বলেন।

চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা সেচপ্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, মতলব উত্তরের জনতা বাজার এলাকার ১৫০ মিটার মেঘনার ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় বাঁধ রক্ষা পায়। তবে আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। এরইমধ্যে শনিবার সকাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্রমিকরাও কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ