নড়াইল বিএনপির কার্যক্রম নামমাত্র

নড়াইল বিএনপির কার্যক্রম নামমাত্র

নড়াইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪১ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:৫২ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

নড়াইল জেলা বিএনপির কার্যালয়

নড়াইল জেলা বিএনপির কার্যালয়

নড়াইল বিএনপির কমিটি থাকলেও নেতা-কর্মীরা আছে অভিভাবকহীন অবস্থায়। জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম থাকেন রাজধানীতে আর সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ। নামমাত্র সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারণে জেলা বিএনপির অবস্থা এখন নিষ্ক্রিয়।

দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, প্রতিষ্ঠাতার জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী; কোনো কর্মসূচিই পালন করে না নড়াইল বিএনপি। শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় নেতাদের সন্তুষ্ট করতে মাঝেমধ্যে ফেসবুকে ২-১টি ছবি আপলোড আর সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের কার্যক্রম। দলের এই নাজুক অবস্থায় হতাশ হয়ে অনেক কর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকেই দল ছেড়েছেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ১৬৪ সদস্যের দুই বছর মেয়াদি জেলা বিএনপির কমিটিতে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি এবং মনিরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। বাদ দেয়া হয় প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের শিকদারকে। এ নিয়ে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে জেলার নেতা-কর্মীদের ভেতর।

এদিকে, বর্তমান সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ব্যবসায়িক কাজে প্রায় সারাবছরই ঢাকা ও দেশের বাইরে থাকেন। কালেভাদ্রে অতিথির মতো এলাকায় এসে আবারো চলে যান। আবার মাঝেমধ্যে নিজ বাড়ি নড়াগাতি থানার খাশিয়াল গ্রামেও যান। জেলা শহর থেকে তার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার ও যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা থাকায় সেখানেও যেতে পারেন না নেতা-কর্মীরা। একই অবস্থা সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামেরও। তিনিও ব্যবসায়িক কাজে বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করেন। মাঝে মধ্যে নড়াইল শহরে গেলেও গা বাঁচিয়ে চলেন। এসব কারণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে নেতা-কর্মীদের। শীর্ষ দুই নেতার নিষ্ক্রিয়তায় তারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ ও হতাশ।

কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন শুধু কাগজে-কলমে। তাদের উদাসীনতায় নড়াইলে দলীয় কোনো কর্মসূচি পালিত হয় না বললেই চলে। কোনো কর্মসূচি সংক্ষিপ্তভাবে পালিত হলেও সেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতি খুবই কম থাকে। ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি জেলা কার্যালয়ে। এমনকি পাওয়া যায়নি ঘরোয়াভাবে কোনো কর্মসূচি পালনের খবর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নড়াইল চৌরাস্তায় জেলা বিএনপির কার্যালয়টি বছরের পর বছর নীরবে-নিভৃতে পড়ে আছে। কার্যালয়ের প্রধান ফটকের তালায় ধরেছে মরিচা, আর ভেতরে পোকামাকড়ের বসতি। বর্তমান কমিটির সময়ে একবারও খোলা হয়নি কার্যালয়ের তালা।

নড়াইল বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, বিগত সময়ে জেলা বিএনপির এমন সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা যায়নি। বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতার কারণে এমন নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মতো সহজ কর্মসূচিও বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ নির্বাচনেও নড়াইল-২ আসনের প্রার্থীর পক্ষে কোনো কাজ করেনি জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

তিনি আরো বলেন, জেলা বিএনপির প্রথম সারির নেতারা এক প্রকার ঝিমিয়ে পড়েছেন। এ কারণে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক কর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। দলও ছেড়েছেন অনেকে। এ পরিস্থিতিতে বর্তমান কমিটি ভেঙে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। নইলে জেলার মতো তৃণমূলেও অস্তিত্ব হারাবে নড়াইল বিএনপি।

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জুলফিকার আলী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলীয় কর্মসূচি পালন করা অনেকটাই কষ্টসাধ্য। তবু জাতীয় কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো কর্মসূচি হাতে নিলে সেখানে আমরা যথাসাধ্য উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি।

তিনি আরো বলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম প্রায় ১২ বছর ধরে নড়াইল সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ আটকে রেখেছেন। জেলার দায়িত্ব নিলেও উপজেলার পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবেও কাউকে দায়িত্ব দেননি তিনি। এছাড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান আলেকও দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে আছেন। অথচ ২০০৮ সাল থেকে সদর উপজেলাসহ লোহাগড়া, কালিয়া, নড়াগাতি থানা ইউনিট ও পৌর ইউনিটে কমিটি গঠিত হয়নি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামসহ অনেক নেতাকে নির্বাচনী প্রচারণায় পাওয়া যায়নি। তারা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। জনগণও এটাকে ভালো চোখে দেখেনি। আর জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম নিজে নড়াইল-১ আসনের প্রার্থী হওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যস্ত ছিলেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, দলীয় কার্যালয়ে অনুমতি না পাওয়ায় ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমার বাসায় পালন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিগুলো পালনের চেষ্টা করেছি। চারটি থানাসহ সাতটি ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি আগেই শেষ হয়েছে। করোনা সংকটের কারণে তা আটকে আছে। নড়াইল-২ আসনের প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মনোনয়ন পাওয়ার পর আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেননি।

নড়াইল বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কিছু সুবিধাভোগী নেতা-কর্মী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমার ঢাকা, নড়াইল কিংবা বিদেশে আসা-যাওয়া প্রসঙ্গে হাইকমান্ডকে জানিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টি অতিরঞ্জিত করার কিছু নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/এইচএন/এমআর