ঝালকাঠির সুস্বাদু আমড়া যাচ্ছে সারা দেশে

ঝালকাঠির সুস্বাদু আমড়া যাচ্ছে সারা দেশে

আমিনুল ইসলাম, ঝালকাঠি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৭:০২ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ঝালকাঠির সুস্বাদু আমড়া

ঝালকাঠির সুস্বাদু আমড়া

দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা রয়েছে বরিশাল অঞ্চলের আমড়ার। সুস্বাদু এই ফলের চাহিদার বেশির ভাগই পূরণ হচ্ছে ঝালকাঠি থেকে। প্রতিদিনই জেলার ভাসমান হাটে বিক্রি হচ্ছে আমড়া। এ হাট থেকে সারাদেশে সরবরাহ করা হয় পুষ্টিকর এ ফল।

বিপুল চাহিদা, সেই সঙ্গে লাভজনক হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলে বেড়েছে পুষ্টিকর ফল আমড়ার চাষাবাদ। দক্ষিণে আমড়া উৎপাদনের অন্যতম জেলা ঝালকাঠি। এই জেলার বিভিন্ন হাটে এখন চলছে আমড়ার বেচাকেনা।

এর মধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। এখান থেকে আমড়া কিনে সরবরাহ করা হয় সারা দেশে।

এ বছর দফায় দফায় বৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যার কারণে ঝালকাঠিতে সুস্বাদু আমড়ার ফলন যেমন কম হয়েছে, সেই সঙ্গে গাছ থেকে আমড়া ঝড়ে গেছে। এবার দেশের বাজারগুলোতে আমড়ার দাম কম থাকায় কৃষক ও পাইকাররা হতাশায় রয়েছেন।  

বরিশালের আমড়া নামে সারাদেশে যে সুস্বাদু আমড়া সরবরাহ হয়, তার বড় অংশ ঝালকাঠির গ্রামগুলো থেকেই যোগান দেয়া হয়। ভাদ্র ও আশ্বিন এই দুই মাস আমড়ার মৌসুম। 

মৌসুমকে কেন্দ্র করে এখন মাঝামাঝি সময় ঝালকাঠির প্রধান ভাসমান বাজার ভীমরুলি গ্রামের ভীমরুলি খালে শতশত আমড়ার নৌকা ভাসার কথা ছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবারের চিত্র বদলে গেছে। 

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা এখান থেকে আমড়া কিনছেন ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে। যা গত বছর ১৫শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা ছিল। সেই সঙ্গে আমড়ার ফলনও হয়েছে গত বছরের তুলনায় অনেক কম। এ কারণে চাষিদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের মুখেও হতাশার কথাই শোনা যাচ্ছে। 

আমড়া বিক্রেতা মলয় হালদার বলেন, পূর্ব-পুরুষের কাছ থেকে পাওয়া এই আমড়া চাষ হোক ওষুধ ও বিষমুক্ত পদ্ধতিতে। ভীমরুলীতে আড়ত ছোট-বড় মিলিয়ে ১০টি। সবাই মূলত পেয়ারা কেনেন। তবে পেয়ারার শেষ সময়ে শুরু হয় আমড়ার ভরা মৌসুম। সে জন্য আড়তদাররা থেকে যান আগের মতোই। চলে আমড়া বিকিকিনির হাঁকডাক। 

ডুমুরিয়া, বেতলা, ডালুহারসহ ঝালকাঠির বেশির ভাগ গ্রাম পেয়ারার পাশাপাশি আমড়া চাষের জন্যও বিখ্যাত। 

বর্তমানে এসব আমড়া বিক্রি হচ্ছে আটঘর, পিরোজপুরের কুরিয়ানাসহ ঝালকাঠির ভীমরুলী পানিতে ভাসমান বাজারে। তবে সবচেয়ে বড় ভাসমান বাজার ভীমরুলী। এখানকার জৌলুসই আলাদা। সকাল ৮টার মধ্যে বাজার বসে, বেচাকেনা চলে দুপুর পর্যন্ত। 

এদিকে, ভীমরুলীতে বাগান পরিদর্শনে উঠে এলো চাষিদের কিছু সমস্যার কথাও। বর্ষা মৌসুমে এক ধরনের লেদা পোকা গাছের পাতা খেয়ে, পাতাশূন্য করে ফেলে। এতে আমড়া চাষে ক্ষতি হয়। এ জন্য কৃষক- চাষি-বাগানিরা চান স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তা। কিন্তু সাড়া পান না তেমন। তারা কীটনাশকমুক্ত আমড়া চাষাবাদে আগ্রহী। 

ঝালকাঠি কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আমড়া চাষের জন্য কৃষি বিভাগের আলাদা কোনো প্রকল্প নেই। দুর্যোগসহ আধুনিক পদ্ধতিতে আমড়া চাষের জন্য প্রয়োজন কৃষি বিভাগের আলাদা প্রকল্প ও কৃষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। 

কৃষি বিভাগ বর্তমান অবস্থায় নানা ভাবে পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের পাশে রয়েছে । 

ঝালকাঠিতে এ বছর ৭২০ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ হয়েছে। জেলার ৫ হাজার চাষি হেক্টর প্রতি ১৫ মেট্রিকটন ফলন পাচ্ছেন। প্রতিকূল পরিবেশ থাকলেও এ বছর ঝালকাঠির চাষিদের উৎপাদিত আমড়া থেকে আড়াই কোটি টাকা আয় হবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে। 

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে এসব এলাকার আমড়া বিদেশে রফতানির সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। এতে অর্জিত হবে বৈদেশিক মুদ্রা। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে