পাবনায় ৮০ বছরের পাত্র ভিক্ষুক হওয়ায় বিয়ে ভাঙলেন সত্তরোর্ধ্ব পাত্রী

পাবনায় ৮০ বছরের পাত্র ভিক্ষুক হওয়ায় বিয়ে ভাঙলেন সত্তরোর্ধ্ব পাত্রী

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫৬ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:৫৭ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ভদ্রা গ্রামে শুক্রবার ৭০ বছরের রাহেলা বেওয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ৮০ বছরের বৃদ্ধ মিজান আলীর সঙ্গে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উৎসবের আমেজ চলছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভণ্ডুল হওয়ায় থমকে যায় আনন্দমুখর পরিবেশ। বর পেশায় ভিক্ষুক ও তার নিজ বাড়ি নেই বলে শেষ মুহূর্তে বিয়ে ভণ্ডুল করে দেয় কনেপক্ষ।

ভদ্রা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুর রহমান জানান, রাহেলা বেওয়া বিধবা হন প্রায় ২০ বছর আগে। একমাত্র মেয়ে মমতাকে বিয়ে দেন একই গ্রামের আলী আজগরের সঙ্গে। সেই থেকে মেয়ে ও কামাইয়ের বাড়িতে থাকেন তিনি।

শফিকুর রহমান আরো জানান, শেষ জীবনে একজন সঙ্গী ও নিশ্চিন্তে দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য তাকে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান হয়। পাত্র হিসেবে ঠিক করা হয় মথুরাপুরের মিজান আলীকে। বিয়ের দিন-তারিখও ঠিকঠাক। কিন্তু ঘটক তথ্য গোপন করায় বাধে ঝামেলা। ঘটক জানায়, মিজান আলীর বাড়ি ও জমিজমা আছে। কিন্তু শুক্রবার সকালে খবর আসে ওই বৃদ্ধ অন্যের আশ্রয়ে থেকে ও ভিক্ষা করে জীবন চালান। এরপর বিয়ে ভণ্ডুল করে দেয় কনেপক্ষ।

মথুরাপুর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুন্নাহার জানান, রাহেলার মেয়ে-জামাইয়ের সাংসারিক অবস্থাও খুব ভালো না। তার জীবনের শেষ দিনগুলো যেন ভালো কাটে সেজন্য তাকে বিয়ে দিতে সবাই রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু বর নিজেই উদ্বাস্তু ও ভিক্ষুক জানার পর এ বিয়েতে রাহেলা ও তার স্বজনরা অমত প্রকাশ করেন।

তিনি আরো জানান, ইউপি কার্যালয় থেকে রাহেলার জন্য সাধ্যমতো খাদ্রসামগ্রী ও অন্যান্য সহায়তা দেয়া হয়। মেয়ের বাড়িতে তিনি নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারছেন। কিন্তু উদ্বাস্তু লোকের সঙ্গে বিয়ে দিলে আরো সমস্যা হতো। এ কারণে রাহেলার স্বজন ও গ্রামের গণ্যমান্যরা মিলে বিয়ে বন্ধ করে দেয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর