আসামি গ্রেফতার, মেয়ের কবরের পাশেই অনশন ভাঙলেন সেই বাবা

আসামি গ্রেফতার, মেয়ের কবরের পাশেই অনশন ভাঙলেন সেই বাবা

ভোলা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৩ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:২৯ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

আসামি গ্রেফতার, মেয়ের কবরের পাশে অনশন ভাঙলেন সেই বাবা

আসামি গ্রেফতার, মেয়ের কবরের পাশে অনশন ভাঙলেন সেই বাবা

ভোলার বোরহানউদ্দিনে মাদরাসাছাত্রী ফারজানা আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার প্রধান আসামি মো. মিরাজ হোসেন কামাল গ্রেফতার হয়েছেন। তাই মেয়ে ফারজানার কবরের পাশে থাকা অনশনরত বাবা আবুল কামাল কালু তার অনশন ভেঙে বাড়ি ফিরেছেন। 

বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার শ্যামলী এলাকার একটি বাসা থেকে কামালকে গ্রেফতারের পরই অনশন ভাঙেন মৃত ফারজানার বাবা।

মৃত ফারজানা বোরহানউদ্দিনের সাচড়া ইউপির রাম কেশব গ্রামের আবুল কামাল কালুর মেয়ে। তিনি স্থানীয় চর গঙ্গাপুর দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

আরো পড়ুন>>মেয়ের কবরের পাশে বসে অনশনরত বাবার আর্তনাদ

গত দুইদিন আগে দেশের জাতীয় পত্রিকাগুলোতে ‘মেয়ের কবরের পাশে অনশনে বাবা’ বিষয়ক সংবাদ প্রচার হয়। এতে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এতে পুলিশ বিভাগ দ্রুত ফারজানা আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার প্রধান আসামি মো. মিরাজ হোসেন কামালকে গ্রেফতার করে।

ফারজানার বাবা আবুল কালাম বলেন, মামলার আসামিরা উত্ত্যক্ত ও নির্যাতন করার ফলে আমার মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় হন্য হয়েও বিচার চেয়েছি। কিন্তু কোনো বিচার পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই মেয়ের ছবি নিয়েই ফারজানার কবরের পাশে অনশন শুরু করি। ফলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।

তিনি আরো বলেন, মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার না করলে আবারো মেয়ের কবরের পাশে অনশনে বসব। 

আরো পড়ুন>>দীঘির সঙ্গে কে এই যুবক, পরিচয় নিয়ে উত্তপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম কাশেম বলেন, মামলার প্রধান আসামি কামালকে গ্রেফতারের পর এলাকার মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতার করতে আমরা দাবি জানাচ্ছি। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে আর কেউ এ রকম অপরাধ করার সাহস করবে না।
 
বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো. মাজহারুল আমীন জানান, রাজধানী ঢাকার শ্যামলী এলাকা ফারজানাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার প্রধান আসামি মো. মিরাজ হোসেন কামালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে মামলার ৫ নম্বর আসামি মো. মাইনুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকিদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন>>পানির দামে পেয়েও কলকাতায় তিনজনে ভাগে কিনছে এক ইলিশ

ফারজানাকে মাদরাসায় আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করতো কামাল। স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে মেলেনি কোনো সুরাহা। উল্টো ফারজানাকে চরিত্রহীন অপবাদ দিয়ে তারই বাড়িতে এসে নির্যাতন করে কামালের পরিবার। গত ২৯ আগস্ট ফারজানাকে বাড়িতে গিয়ে নির্যাতন করে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয় তারা। এরপরই ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পরদিন ফারজানার বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে সাতজনকে আসামি করে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ