গ্রুপিং-দ্বন্দ্বে মলিন মেহেরপুর জাপার রাজনীতি

গ্রুপিং-দ্বন্দ্বে মলিন মেহেরপুর জাপার রাজনীতি

মেহেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪০ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মেহেরপুরে সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জেলা জাতীয় পার্টি। আবার নেতাদের মাঝেও বেড়েছে গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব ও কোন্দল। এতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে কর্মী-সমর্থকরা, দিনদিন মলিন হয়ে যাচ্ছে দলটির রাজনীতির মাঠ।

জেলার গণ্যমান্যরা জানান, মেহেরপুরে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে না। করোনাভাইরাস মহামারিতেও অস্বচ্ছল মানুষ কিংবা কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি জেলার কোনো জাপা নেতাকে। তবে নির্বাচন এলে দলবেঁধে আসবেন ভোট চাইতে।

বিপদের দিনে নেতাদের পাশে না পেয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের অস্বচ্ছল কর্মী-সমর্থকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মী জানান, নেতারা শুধু পদ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। সাংগঠনিক কোনো কর্মকাণ্ড কিংবা কর্মীদের খোঁজ-খবর নেয়ার কথা চিন্তাও করেন না তারা।

জানা গেছে, মেহেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির দুটি গ্রুপ রয়েছে। দুটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সভাপতি আব্দুল হামিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান। এসব গ্রুপ, দ্বন্দ্বের কারণে জেলা জাতীয় পার্টি দিনদিন অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে।

কয়েকজন ত্যাগী জাপা নেতা জানান, কয়েক বছর আগেও মেহেরপুরে জাতীয় পার্টির যৌবন ছিল। জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেক শক্তিশালী ছিল। কিন্তু ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতা-কর্মীদের কমিটিতে স্থান না দেয়ায় দিনদিন অস্তিত্ব হারাচ্ছে জাপা, সমর্থকশূন্য হয়ে পড়েছে রাজনীতি।

জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোসলেম আলী বলেন, মেহেরপুরে জাতীয় পার্টির কমিটি শুধু নামেই রয়েছে। কমিটির মধ্যেই গ্রুপিং সৃষ্টি কাজ করছে। সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক এখন দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ব্যক্তিগত কাজ ছাড়া কেউই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। এ কারণে আমরা কর্মী-সমর্থক হারাতে বসেছি।

মেহেরপুর জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি সামছুল মিয়া বলেন, সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে আমাদের অনেক প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু জেলার শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস মহামারিতে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো পিছিয়ে পড়েছে। শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান না করলে মেহেরপুরে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব থাকবে না।

এ বিষয়ে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল হামিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ