নারীর চুল কেটে উল্লাস, কাউকে কিছু বললে পুড়ানোর হুমকি!

নারীর চুল কেটে উল্লাস, কাউকে কিছু বললে পুড়ানোর হুমকি!

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৮ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বিএনপি নেতা আনিসুর ও তার সহযোগী শারমীন মৌসুমী কেকা।

বিএনপি নেতা আনিসুর ও তার সহযোগী শারমীন মৌসুমী কেকা।

ঝালকাঠিতে দুই প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে এক নারীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় ও মাথার চুল কেটে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এরইমধ্যে ওই দুই প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করেন নির্যাতিতা নারী। 

মামলার এজাহারে নির্যাতিতা জানান, গত ১০ জুলাই বোরহান উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বাদী নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু স্বামী বোরহান আগেই বিএনপি নেতা আনিসুর রহমানের বোন সেলিনা আক্তার লাকিকে বিয়ে করেন। গত ৩০ আগস্ট রাত ৮টায় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে জেলা পরিষদ ভবনের সামনের ভাড়া বাসায় তাকে জিম্মি করে আনিসুর রহমান, তার বোন সেলিনা আক্তার লাকি, তার সহযোগী শারমীন মৌসুমী কেকা, রাখি আক্তার, ফাতেমা শরীফ, আইরিন পারভীন এ্যানিসহ ৮-১০ জন।

দ্বিতীয় বিয়ের অজুহাতে লাকি, তার ভাই আনিসুর ও কেকার নির্দেশে বোরহানের দ্বিতীয় স্ত্রীকে মারধর করে তাদের সহযোগীরা। এ সময় বাসা থেকে দুই লাখ টাকাসহ দুই লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট করে তারা। লুটের পর বাসা থেকে নির্যাতিতাকে তুলে নিয়ে পূর্বচাঁদকাঠি হোটেল হিলটনের নিচতলার একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে নির্যাতিতাকে আরো নির্যাতন করা হয়।

ওই দিন রাতে কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে উল্লাস করে অভিযুক্তরা। পরে পরনের কাপড় খুলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে চুন লাগায় তারা। নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগীর ভাইকে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান।

৩১ আগস্ট দুপুর ১২টার মধ্যে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে নির্যাতিতাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসানোর হুমকি দেয়া হয়। এ সুযোগে নির্যাতিতাকে যৌন হয়রানিও করেন আনিসুর। 

এমনকি যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে নির্যাতিতাকে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলা হয়। স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। এক পর্যায়ে জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর দেন নির্যাতিতা। টানা দুই দিন তালাবদ্ধ কক্ষে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় তাকে।

বোনের নির্যাতনের অবস্থা দেখে নির্বাক হন ভাই নুরুজ্জামান। টাকা দিয়ে আনিসুরের কাছে বোনের জীবন ভিক্ষা চান ভাই। 

তখন কক্ষের তালা খুলে নির্যাতিতার ভাইকে আনিসুর বলেন, ‘আজ তোর বোনের জীবন ভিক্ষা দিলাম, যা নিয়ে যা। ভবিষ্যতে যদি বোরহানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করে তাহলে বোরহান ও তোর বোনকে শেষ করে ফেলব। এখান থেকে তোর বোনকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যাবি। হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে যাবি না। কাউকে কিছু বলবি না। থানায় যাবি না। কাউকে কিছু বললে বা মামলা করলে তোদের গ্রামে গিয়ে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেব।’

বাদী এজাহারে আরো উল্লেখ করেন, জীবন বাঁচিয়ে গুরুতর অবস্থায় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ নেয়া হয়। তাদের ভয়ে হাসপাতালে যেতে পারেননি ভুক্তভোগী। ৯ সেপ্টেম্বর থানায় গেলে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

নির্যাতিতা নারী বলেন, বিএনপি নেতা আনিসুর, তার বোন লাকি ও তার সহযোগী কেকা আমার ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। এ নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

বাদীর আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নির্যাতিতা নারীর মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এরইমধ্যে বাদীকে নিরাপত্তা দিতে সদর থানার ওসিকে নির্দেশ পাঠিয়েছে আদালত।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান বলেন, নারী নির্যাতনে করা মামলা সংক্রান্ত আদালতের আদেশ এখনো পাইনি। আদেশ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ