বুকে ছুরি নিয়ে ১২ ঘণ্টায় তিন হাসপাতাল ঘুরে ঢাকায়

বুকে ছুরি নিয়ে ১২ ঘণ্টায় তিন হাসপাতাল ঘুরে ঢাকায়

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৯ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বুকে ছুড়ি নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বেহেশত আরাহাসপাতালে

বুকে ছুড়ি নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বেহেশত আরাহাসপাতালে

পঞ্চাশোর্ধ্ব বেহেশত আরা। বুকে ছুরি নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে ছুটেছেন আরেক হাসপাতালে। সকাল ৯টা থেকে রাত রাত ৯টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা ছোটাছুটির পর কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

জানা গেল, মাঝ বয়সে সাবেক স্বামীর হামলার শিকার হয়েছেন বেহেশত আরা। পারিবারিক বিরোধের জেরে তার বুকে লম্বা ছুরি বসিয়ে দিয়েছেন সাবেক স্বামী। বুধবার সকালে করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউপির মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার ছোট বোন আনুফা আক্তারও। বেহেশত আরা ওই উপজেলার বাহেরচর গ্রামের দীন ইসলামের মেয়ে। হামলাকারী মো. জিল্লুর রহমান একই এলাকার কেরামত আলী ওরফে গতা মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, ১০ বছর আগে বেহেশত আরার স্বামী মারা যান। ঘটনার কয়েক বছর পর জিল্লুর রহমানের সঙ্গে গোপনে বিয়ে হয় তার। কিন্তু সংসার করা হয়নি। কয়েক বছর আগে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ পেলে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই মামলা ও বিরোধ চলছিল। এ অবস্থায় গত মাসে জিল্লুর রহমানকে তালাক দেন বেহেশত আরা। এরপর স্ত্রীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন তিনি। প্রতিশোধ নেয়ার জন্য পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার বেহেশত আরার ওপর হামলা চালান।

বেহেশত আরা জানান, বুধবার সকালে মামলার কাজে বাড়ি থেকে কিশোরগঞ্জে যাচ্ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন আনুফা আক্তার। সকাল ৯টার দিকে নিয়ামতপুর মধ্যপাড়া এলাকায় অটোরিকশা থামিয়ে বেহেশত আরার ওপর হামলা চালান জিল্লুর রহমান। ওই সময় ছোট বোন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন। আনুফাকে আহত করার পর একই ছুরি বেহেশত আরার বুকে বসিয়ে দেন জিল্লুর। ছুরিটি বুকে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ছুরিবিদ্ধ অবস্থায় বেহেশত আরা ও আহত আনুফা বেগমকে উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাদের কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ছোট বোনকে চিকিৎসা দেয়া হলেও বড় বোনের ছুরিবের করার সাহস পাননি চিকিৎসক। এ অবস্থায় বেহেশত আরাকে পাঠনো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর বিকেলে রাত ৯টার দিকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বেহেশত আরার ছেলে বাহাদুর মিয়া বলেন, আমার মা এখনও বেঁচে আছেন। হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে।

করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে জিল্লুর রহমান পলাতক। তাকে আটকের জন্য অভিযান চলছে। জিল্লুর ঢাকায় অটোরিকশা চালান। মঙ্গলবার ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছেন তিনি। তালাক দেয়া, জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর