কোনো মা নিজের সন্তানকে এভাবে পেটাতে পারে?

কোনো মা নিজের সন্তানকে এভাবে পেটাতে পারে?

আদনান সাকিব, চট্টগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪৯ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৪ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

মায়ের নির্যাতনের চিহ্ন শিশুটির সারা শরীরে

মায়ের নির্যাতনের চিহ্ন শিশুটির সারা শরীরে

দুই বছরের কোলের শিশুর সারা শরীরে নির্মম আঘাতের চিহ্ন। দেখে মনে হবে বিবাদের জেরে শত্রুরা মারধর করেছে। কিন্তু না, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে শিশু সন্তানটিকে বেধড়ক মারধর করেছে তার নিজের মা। শিশুটিকে কখনো চড়-থাপ্পড়, কখনো বেত দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়েছেন তিনি।

অবুঝ শিশুটির আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করায় প্রাণে রক্ষা পায় সে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।  এ নিয়ে পুরো এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সোমবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুরে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে।  বর্তমানে শিশুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, মোহাম্মদপুরের মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন তার স্ত্রী সুমি আক্তারকে বাপের বাড়িতে থেকে টাকা আনতে চাপ দেয়। স্ত্রী বারবার বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে পারবে না জানালে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়াঝাটি হয়। এক পর্যায়ে কামাল উদ্দিন বাইরে চলে গেলে ক্ষুধার্ত শিশুটি খাবারের জন্য মাকে জড়িয়ে ধরে। ওই সময় শিশুটিকে মাথার চুল ধরে ঝুলিয়ে রাখেন মা সুমি আক্তার। এরপরও শিশুটি ছটফট করতে থাকলে প্রথমে চড়-থাপ্পড়, পরে বেত দিয়ে নির্মমভাবে পেটাতে শুরু করেন তিনি। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সুমি আক্তারকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও শিশুটিকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি কেউ। পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

মাত্র দুই বছরের অবুঝ শিশুর ওপর গর্ভধারিণী মায়ের অমানবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা। তারা পাষণ্ড মায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।

দক্ষিণ রাজানগর ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মুহাম্মদ বদিউল আলম আজিজ বলেন, প্রতিদিনই কামাল ও সুমির মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটছে। এসব না করতে বহুবার তাদের অনুরোধ করেছি। শিশুকে মারধরের বিষয়টি আমি স্থানীয়দের কাছে শুনেছি। অবুঝ শিশুকে মা কোনোদিন এভাবে মারতে পারে না। ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে কি না তাও পরীক্ষা করা দরকার।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রায়হানুল ইসলাম বলেন, কোনো মা নিজের সন্তানকে এভাবে নির্যাতন করতে পারে জানতাম না। শিশুটির সারা শরীরে বেতের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর