আশুগঞ্জ মোকামে ধান সংকট, লোকসানে চাতাল মালিকরা

আশুগঞ্জ মোকামে ধান সংকট, লোকসানে চাতাল মালিকরা

সন্তোষ চন্দ্র সূত্রধর, আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪৩ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

মোকামে সরবরাহ কম থাকায় চড়া দামেই ধান কিনতে হচ্ছে তাদের

মোকামে সরবরাহ কম থাকায় চড়া দামেই ধান কিনতে হচ্ছে তাদের

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চাতাল মালিক ও ধানের ব্যাপারীদের বেচা-কেনায় উৎসব মুখর হয়ে থাকত শত বছরের পুরনো এই ধানের মোকাম। কিন্তু বর্তমানে ধানের ময়ালে (কৃষকের গোলায়) ধান না থাকায় ধান সংকটে ভুগছে আশুগঞ্জ চাতাল মালিকরা। মোকামে সরবরাহ কম থাকায় চড়া দামেই ধান কিনতে হচ্ছে তাদের। 

বর্তমানে হাটে বিআর-২৮ জাতের এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২২০ টাকা ও বিআর-২৯ জাতের ধান ১১০০ থেকে ১১৩০ টাকা এবং হীরা ধান বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১০২০ টাকা মণ। তবে হাটে সংকট তৈরির আগে বিআর-২৮ জাতের প্রতিমণ ধান বিক্রি হয়েছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা ও বিআর-২৯ ধান ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং হীরা ধান প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দরে। এখন হাটে সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়েই বেশি দরে ধান কিনতে হচ্ছে চাতালকল মালিকদের। 

হবিগঞ্জের লাখায়ের ধানের বেপারী মনতাজ মিয়া জানান, বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনেন তিনি। কিন্তু এখন কৃষকদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত ধান পাচ্ছেন না। অনেক কৃষকের গোলা খালি হয়ে গেছে। আর যেসব কৃষকদের কাছে কিছু ধান আছে তারা বিক্রি করছেন না। এতে করে প্রভাব পড়ছে ধানের দামে। ফলে চালকল মালিকরা চাহিদা মতো ধান কিনতে পারছে না।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম এলাকার ধান ব্যাপারী কাঞ্চন জানান, তিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিওসি ঘাটের হাটে ধান নিয়ে আসছেন। প্রতি মৌসুমে লক্ষাধিক মণ ধান কিনে হাটে বিক্রি করেন। কিন্তু গত এক মাস ধরে চাহিদা অনুযায়ী ধানের যোগান নেই। কৃষকদের কাছে ধান না থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। সংকট যত তীব্র হবে, ধানের দাম তত বাড়বে বলে জানান তিনি।

এদিকে প্রতিবছরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাতালকল মালিকদের সঙ্গে সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের জন্য চুক্তি করে খাদ্য বিভাগ। চুক্তি অনুযায়ী গত ৭ মে থেকে শুরু হয়ে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। চলতি বছর আশুগঞ্জ থেকে ২৭ হাজার ৩শত ৩১ মেট্রিক টন সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করতে পারেনি চালকল মালিকরা। কিন্তু এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সগ্রহ করতে না পারায় আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়েছে খাদ্য বিভাগ। এই ১৫ দিনের ভিতরে সরকারি গুদামে চাউল সরবরাহ করতে গিয়ে প্রত্যেক মিল মালিকদের ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে লোকসান গুনতে হয়েছে। লক্ষমাত্রা সংগ্রহ হয়েছে ৯৮ শতাংশ।
 
আশুগঞ্জ উপজেলার মেসাস আওলাদ এগ্রো ফুডের মালিক আওলাদ হোসেন বলেন, প্রথম থেকেই লোকসান দিয়ে চাল সরবরাহ করছি। এখন বাজারে ধানের সংকট তৈরি হওয়ায় দাম আরও বেড়েছে। এর ফলে আমাদের লোকসানও বাড়ছে। এবার সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করতে গিয়ে আমার অর্ধকোটি টাকার লোকসান হয়েছে। 

আশুগঞ্জ উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি জোবায়ের হায়দার বুলু বলেন, ধানের বাজার প্রথম থেকেই চড়া। সরকার আমাদের যে দর দিয়েছে, বাজার দর তারচেয়ে অনেক বেশি। সেজন্য আমরা লোকসান দিয়েই সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করছি। সম্প্রতি ধানের দাম আরও বেড়েছে। এর ফলে আমাদের লোকসানের পরিমাণও বাড়ছে। এমতাবস্থায় আগামী আমন মৌসুমে সরকারি ভাবে সংগ্রকৃত চাউলের দাম আরো বৃদ্ধি ও ক্ষতিগ্রস্ত মিল মালিকদের সরকারি ভাবে প্রনোধনা দিবার দাবী করেন সরকারের কাছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ময়নুল হোসেন ভূইয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, বন্যা ও করোনাভাইরাসের প্রভাবে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চালকল মালিকদের লোকসান হচ্ছে। আশা করছি আগামী মৌসুমে এটি ঠিক হয়ে যাবে। আর চালকল মালিকদের যেন প্রণোদনা দেয়া হয় সেজন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম