সেলিউসিড সাম্রাটদের গড়া দুর্গের খোঁজ

সেলিউসিড সাম্রাটদের গড়া দুর্গের খোঁজ

সাত রঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৫ ২২ নভেম্বর ২০২১  

সেলিউসিড সাম্রাটদের গড়া দুর্গের খোঁজ। ছবি সংগৃহীত

সেলিউসিড সাম্রাটদের গড়া দুর্গের খোঁজ। ছবি সংগৃহীত

মাত্র কয়েকদিন আগে গেলো দীপাবলি উৎসব। শীতের ঠিক শুরুতে নভেম্বরের শেষ কিংবা ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতের মতোই আলোর উৎসবে মাতে ইসরায়েলে তথা পুরো বিশ্বের ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষেরা। সেই উৎসবের নাম হানুক্কা। তবে হানুক্কা মূলত বিজয়োৎসব। 

লোককথা অনুযায়ী, প্রাচীন ইসরায়েলে গণ-বিদ্রোহের মধ্যে দিয়েই রেশ পড়েছিল হেলেনিস্টিক গ্রিক সাম্রাজ্যের। আর সেই জয়কেই বছরের পর বছর উদযাপন করে আসা হচ্ছে হানুক্কার মাধ্যমে। এতদিন পর্যন্ত শুধুমাত্র লোককথা হয়েই জীবিত ছিল হানুক্কার গল্প। এবার প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ মিলল তার। ইসরায়েলের লাচিস অরণ্যে হদিশ মিলল ২ হাজার ১০০ বছরের পুরনো গ্রিক দুর্গের। 

ইসরায়েলের লাচিস অরণ্যে হদিশ মিলল ২ হাজার ১০০ বছরের পুরনো গ্রিক দুর্গেরযার সঙ্গে হুবহু মিলে যায় হানুক্কা বিজয়ের সময়কাল। মাইথোলজি অনুযায়ী সেই বিদ্রোহ হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে। উল্লেখ্য, তৎকালীন ইসরায়েলের মারেশা শহরটি ছিল গ্রিক সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র। এই শহরকে সুরক্ষা দিতেই সেলিউসিড সাম্রাটরা গড়ে তুলেছিলেন লাচিসের সংশ্লিষ্ট দুর্গটি। 

এর আগে লাচিস থেকেই পাওয়া গিয়েছিল সম্পূর্ণ অজানা একটি ভাষায় শিলালিপি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অঞ্চলটির ওপর বিশেষ নজর ছিল প্রত্নতাত্ত্বিকদের। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার অভিযানও চালিয়েছিল ইসরায়েলের অ্যান্টিকুইটিস অথরিটি। এবার সেই অভিযানে নেমে আকস্মিকভাবেই বেরিয়ে পড়ল আরো এক পুরাকীর্তির হদিশ।

৫০ বর্গমিটারের দুর্গটির দেওয়াল ছিল প্রায় ১০ ফুট চওড়া এবং ১৬ ফুট উঁচু৫০ বর্গমিটারের দুর্গটির দেওয়াল ছিল প্রায় ১০ ফুট চওড়া এবং ১৬ ফুট উঁচু। দোতলা দুর্গটির প্রতি তলায় ছিল সাতটি করে কক্ষ, সিঁড়ি এবং অস্ত্রাগার। দুর্গ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রত্নক্ষেত্র থেকে গুলতি, বর্শা, তীর, পোড়া কাঠের বিম, মাটির পাত্র এবং প্রাচীন গ্রিক মুদ্রার হদিশ পেয়েছেন গবেষকরা।

গ্রিক সম্রাট চতুর্থ অ্যান্টিওকাসের রাজত্বের সময় ইসরায়েলে চালু করা হয়েছিল ইহুদি-বিরোধী আইন। বেড়েছিল অত্যাচারের মাত্রা। আর তার বিরুদ্ধেই ক্রমশ সঙ্গবদ্ধ হয়েছিল ইসরায়েলের আদি-বাসিন্দা হাসমোনিয়ানরা। দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষের দিকে হাসমোনিয়ান নেতা জন হিরকানুসের নেতৃত্বে সশস্ত্র বিদ্রোহের রূপ নেয় গণবিক্ষোভ।

দুর্গ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রত্নক্ষেত্র থেকে গুলতি, বর্শা, তীর, পোড়া কাঠের বিম, মাটির পাত্র এবং প্রাচীন গ্রিক মুদ্রার হদিশ পেয়েছেন গবেষকরানা, সেই আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি গ্রিক বাহিনী। যুদ্ধজয়ের পর দুর্গটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় হাসমোনিয়ানরা। সেই বিজয় উদযাপনেই জেরুসালেম মন্দিরকে সাজিয়ে ফেলা হয়েছিল প্রদীপের আলোয়। বুক অফ দ্য ম্যাকাবিস এর কথন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার মতো জ্বালানি থাকলেও অলৌকিকভাবেই সেই মশাল ও প্রদীপ জ্বলেছিল আট দিন ধরে।

খুঁজে পাওয়া গেল ইতিহাসের পাজলের হারানো একটি অংশদুই সহস্র বছর আগে ইসরায়েল এমন অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী ছিল কিনা তা বলা সত্যিই কঠিন। তবে অগ্নিদ্গধ দুর্গের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রমাণিত হলো মারেশায় গ্রিক সাম্রাজ্যের পতনের ইতিকথা। খুঁজে পাওয়া গেল ইতিহাসের পাজলের হারানো একটি অংশ। 

সূত্র: নিউজ ১৮ 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ