গ্রামে পুরুষ প্রবেশ নিষিদ্ধ, তারপরও অন্তঃসত্ত্বা হচ্ছেন নারীরা

গ্রামে পুরুষ প্রবেশ নিষিদ্ধ, তারপরও অন্তঃসত্ত্বা হচ্ছেন নারীরা

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫৪ ১১ নভেম্বর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কেনিয়ার সুন্দর সরল এক গ্রাম উমোজা। নারীদের গ্রাম হিসেবেই উমোজা পরিচিত বিশ্বব্যাপী। পুরুষদের এ গ্রামে প্রবেশ করা নিষেধ। আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী রঙিন বৈচিত্র্যে ভরপুর এই গ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উদ্ভট ঘটনার দেখা মিলেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রামটিতে পুরুষ না থাকলেও সেখানকার নারীরা অন্তঃসত্ত্বা হচ্ছেন, সন্তানও জন্ম দিচ্ছেন। ২৭ বছর ধরে গ্রামটিতে ঘটছে এমন ঘটনা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা বেশ বেড়েছে। পুরুষশূন্য গ্রামে প্রতি বছর কোনো না কোনো নারী সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। ফলে বংশবৃদ্ধিও হচ্ছে।

নাইরোবি থেকে ৬ ঘণ্টার দূরত্বের এই গ্রামটির নাম কেনিয়া ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে সবার মুখে মুখে। নর্থ-সেন্ট্রাল কেনিয়ার নারী-সর্বস্ব এই গ্রামের কথা জানে না এমন মানুষ কেনিয়াতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই গ্রামে সাম্বুরু আদিবাসীদের বাস। এ ছাড়াও তুর্কানা এবং অন্যান্য আদিবাসীও আছে কয়েকজন।

ইতিহাস বলছে, ১৯৯০ সালে উমোজা গ্রামটি গড়ে ওঠে ১৫ ধর্ষিত নারীর উদ্যোগে। তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। পরে আশপাশের এলাকা থেকেও নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীরা একে একে এখানে এসে বসবাস শুরু করেন। ২০১৫ সালে এই গ্রামে বসবাসকারী নারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭-এ। এখন সেখানে প্রায় ২৫০ জন নারীর বসবাস।   এই গ্রামের প্রত্যেক নারীই স্বনির্ভর। তারা ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এই গ্রামের নারীদের তৈরি গহনা বর্তমানে সারা বিশ্বেই বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এখানে বসবাসকারী নারীদের কেউ ধর্ষণের শিকার, কেউ বাল্যবিয়ে, কেউ পারিবারিক সহিংসতার শিকার। এখন তারা সবাই মিলে সেখানে নারীদের সমাজ গড়ে তুলেছেন। উমোজা গ্রামের নারীরা গ্রাম থেকে বেরিয়ে নিজের পছন্দের পুরুষকে খুঁজে নেন এবং ওই ব্যক্তির সন্তান জন্ম দেন। তবে তারা একে অপরকে বিয়ে করেন না।

নারীদের গ্রাম হিসেবেই উমোজা পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত

উমোজার ভিন্ন জীবন ব্যবস্থা, নারীর সংগ্রামের গল্প আর অসাধারণ বৈচিত্র্যে ভরা জীবনধারা সম্পর্কে জানতে, নতুন এক পৃথিবী গড়ার অনুপ্রেরণায় অনেক পর্যটক ভিড় জমান উমোজায়। আর সেটি ঘিরেই উমোজার নারীরা গড়ে তুলেছেন ছোট্ট আয়োজন, যাতে এই গ্রামের অভিজ্ঞতা সবসময় মনে গেঁথে থাকে সবার মনে। কেনিয়ার ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গানে অতিথিদের বরণ করে নেয় উমোজা’র সংগ্রামী নারীরা।

সন্তানদের পড়াশোনার জন্য সেই গ্রামে এখন স্কুল গড়ে উঠেছে। আছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মূলত ২০০৪ কিংবা ২০০৫ সালের দিকে উমোজার নারীরা বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেতে শুরু করে নিজেদের লড়াইয়ের জন্য। এরপর থেকে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে অনুপ্রেরণার খোঁজে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে