ভূতুড়ে দুর্গের শক্ত পাথরে শোনা যায় পদধ্বনি

ভূতুড়ে দুর্গের শক্ত পাথরে শোনা যায় পদধ্বনি

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:১৩ ২৮ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ২১:৩৪ ২৮ অক্টোবর ২০২১

ভূতুড়ে দুর্গের শক্ত পাথরে শোনা যায় পদধ্বনি- ছবি; অ্যানসিয়েন্ট অরিজিন

ভূতুড়ে দুর্গের শক্ত পাথরে শোনা যায় পদধ্বনি- ছবি; অ্যানসিয়েন্ট অরিজিন

পৃথিবীর সব কিছুই বিজ্ঞান বা প্রকৃতির নিয়ম দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয় না। বিজ্ঞান বা প্রকৃতির নিয়ম দ্বারা ব্যাখ্যাতীত ঘটনাকে অতিপ্রাকৃত বলা হয়। অতিপ্রাকৃত ঘটনা ভয়ের সঙ্গে অনেকের মধ্যে রোমাঞ্চকর শিহরণ জাগায়। পুরাতন পরিত্যক্ত প্রাসাদ-দুর্গ নিয়ে অতিপ্রাকৃত ঘটনার অসংখ্য কাহিনির বর্ণনা পাওয়া যায়। গল্প, উপন্যাস লোককথাসহ অনেকের বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘটনাও শোনা যায়।  

এমন প্রাচীন ভূতুড়ে একটি দুর্গের কথা ভাবলেই শিহরণ সৃষ্টি হয় অনেকের মধ্যে। প্রাচীন ধুলোযুক্ত স্যাঁতসেঁতে পাথর, শিশির ঢাকা ঘাসের ঘ্রাণে ভরা প্রাসাদ যেন মুহূর্তই একজনকে কল্পনার জগতে নিয়ে যায়। কল্পনার জগতে বিচরণ করে একজনের অনুভূত হতেই পারে দুর্গ কিংবা প্রাসাদের চারপাশের বন জঙ্গলের পরে খালি মাঠ আর একটায় আওয়াজ হচ্ছে শক্ত পাথরের উপর মৃদু পদধ্বনি। পুরো প্রাসাদ জুড়ে যেন প্রতিধ্বনিত হয় সে পদধ্বনি। কেউ যেন পেছন থেকে অনুসরণ করে। হঠাৎ করেই ঘাড়ের পিছনে ঠাণ্ডা শ্বাস অনুভব করা যায়। এমন প্রাসাদের প্রতিটি কোণেই যেন অচেনা ছায়া দেখা যায়। হয়তো এসব প্রাসাদগুলোর ঘটনার গল্পগুলো যারা বলতে পারতো তারা অনেক আগেই মারা গেছে কিংবা তাদের কেউই বেঁচে নেই।

এমনই রহস্যময় একটি দুর্গ স্টার্লিং দুর্গ। এটি ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য উভয় দিক থেকেই স্কটল্যান্ডের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুর্গগুলোর মধ্যে একটি। স্টার্লিং দুর্গের স্কটিশ রাজা ও রানীদের রাজকীয় বাসস্থান হিসেবে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এটি ছিল উত্তরের ক্ষমতার আসন। যে ভূমিতে দুর্গটি দাঁড়িয়ে আছে তা প্রাচীনকাল থেকে অসংখ্যবার হাত বদল হয়েছে। আর দুর্গটির ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং রক্তারক্তির ইতিহাসে ভরা।

স্টার্লিং দুর্গ - ছবি; অ্যানসিয়েন্ট অরিজিন

অনেকেই মনে করেন ‘গ্রিন লেডি’ নামে পরিচিত এক নারী স্টার্লিং দুর্গে হলগুলোতে ঘুরে বেড়ান। কল্পকাহিনি অনুযায়ী, দুর্গটি রামধনুর সমস্ত রঙের মহিলা ভূত দ্বারা পূর্ণ। গ্রিন লেডি এগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি পরিচিত। সম্ভবত এটি তার মৃত্যুর কিংবদন্তির কারণে বেশি আলোচিত হয়। অবশ্য এখনকার ভূতগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় না।

তবে গ্রিন লেডি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। স্টার্লিং দুর্গে বসবাস করা ধারণাকৃত দুই জন নারীর একজন গ্রিন লেডি বলে অনেকে মত প্রকাশ করেন। একটি মতামত অনুযায়ী, তিনি একজন সামরিক কমান্ডারের মেয়ে ছিলেন। তিনি একজন দুর্ভাগা প্রেমিকা ছিলেন। গ্রিন লেডি প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করতে বাধ্য হয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অন্য একটি মতামত অনুযায়ী, গ্রিন লেডি মূলত স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত রানী মেরির (১৫৪২ থেকে ১৫৮৭ খ্রিষ্টাব্দ) দাসী ছিলেন। তবে তার নাম জানা যায়নি।

লোককথা প্রচলিত আছে, রানীর প্রতি এই যুবতী দাসী খুবই যত্নবান ছিলেন। আর এই দাসী ভবিষ্যদ্বাণী করাতে পারতেন। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, রানী মেরি ভয়ঙ্কর বিপদে আছেন। মেরি এই দাসীর দূরদর্শিতার ক্ষমতায় বিশ্বাস করতেন কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবে কিংবদন্তি অনুযায়ী তিনি ঘুমানোর সময় মেয়েটিকে তার উপর নজর রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন।

স্টার্লিং দুর্গ ও একটি কবরস্থান। ছবি; অ্যানসিয়েন্ট অরিজিন

এরপর থেকে মেয়েটি প্রতি রাতে রানীর উপর নজর রাখতেন। এক রাতে মেয়েটি মেরিকে পাহারা দেওয়ার সময় বেশ ক্লান্ত ছিলেন। ক্লান্তিতে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসে। এর আগে মেয়েটি মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখেছিলেন, যাতে রানী ঘুম থেকে জেগে উঠলে আলো দেখে সান্ত্বনা পান আর ভীত না হন। দুর্ঘটনাক্রমে এ সময় ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেন দাসী মেয়েটি। এ সময় রানী আহত হলেও মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। স্টার্লিং দুর্গের গ্রিন লেডি মূলত এই দাসীর আত্মা।

এছাড়া পিঙ্ক লেডি নামে আরেকটি ভূত স্টার্লিং দুর্গে ঘুরে বেড়ায় বলে বিশ্বাস করা হয়। সেও এই দুর্গে বসবাস করা একজন মহিলা। পিঙ্ক লেডি সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায়না। তবে কিছু কিছু লোককাহিনি অনুযায়ী, পিঙ্ক লেডি স্বয়ং স্কটল্যান্ডের রানী মেরি। এর বেশি কিছু পিঙ্ক লেডি সম্পর্কে জানা যায়নি।

কেউ যদি স্টার্লিং ক্যাসল পরিদর্শন করে, তাহলে এই পিঙ্ক লেডি কিংবা গ্রিন লেডির পদচারণা হয়তো কল্পনা করে শিহরিত হবে। শত শত বছর ধরে যেন দুর্গের দেয়ালগুলো আগলে রেখেছে গ্রিন লেডিরা। পুরোই ভূতুড়ে পরিবেশ। এখানকার বাসিন্দারা হয়তো বলতে চায় যে তারা কারা, তাদের পরিচয়, স্টার্লিং ক্যাসলে তাদের সময়টা কেমন ছিল সবকিছু।

সূত্র-  অ্যানসিয়েন্ট অরিজিন

ডেইলি বাংলাদেশ/এইচএন