মানচিত্রে অস্তিত্বহীন দেশের পাসপোর্ট হাতে যুবক, পরে রহস্যজনকভাবে উধাও

মানচিত্রে অস্তিত্বহীন দেশের পাসপোর্ট হাতে যুবক, পরে রহস্যজনকভাবে উধাও

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৭ ৯ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৪:০৭ ৯ অক্টোবর ২০২১

টোকিয়োর হানেদা বিমানবন্দরে নামেন ঐ ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

টোকিয়োর হানেদা বিমানবন্দরে নামেন ঐ ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

সময়টা ১৯৫৪ সাল। টোকিয়োর হানেদা বিমানবন্দরে নামেন এক ব্যক্তি। অন্য বিমানযাত্রীদের মতো তাকেও শুল্ক বিভাগের অধিকর্তাদের সামনে হাজির হতে হয় নিয়মবিধি পালনের জন্য। তার আচরণ, সঙ্গে থাকা নথি সবই ছিল সঠিক। তাতে সন্দেহ হয়নি শুল্ক অফিসারেরা। কিন্তু তিনি এমন একটি কথা বলেছিলেন যা শুনে চমকে উঠেছিলেন তারা।

নিজের দেশের এমন একটি নাম বলেছিলেন মানচিত্রে যার কোনও অস্তিত্বই ছিল না। অথচ ওই ব্যক্তির পাসপোর্টেও ওই দেশের নামই লেখা ছিল! ওই ব্যক্তি তার দেশের নাম বলেছিলেন টরেড। এ রকম কোনো দেশ মানচিত্রে নেই। অথচ ব্যক্তির পাসপোর্টেও এই দেশের নামই লেখা ছিল এবং পাসপোর্ট খতিয়ে দেখে কোনো ভুল খুঁজে পাননি আধিকারিকরা।

পাসপোর্টেও ওই দেশের নামই লেখা ছিলশেষে মানচিত্রে দেশের অবস্থান দেখাতে বলেন তারা। ওই ব্যক্তি বিন্দুমাত্র সময় না নিয়ে মানচিত্রে নিজের দেশের উপর আঙুল রাখেন। তিনি যেটাকে টরেড বলে চিহ্নিত করেছিলেন, সেটি বাস্তবে ছিল অ্যান্ডোরা। স্পেন এবং ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত একটি দেশ। তার হাজার বছরেরও পুরনো দেশ কেন মানচিত্রে অ্যান্ডোরা নামে চিহ্নিত রয়েছে সে নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। তার কাছে একাধিক দেশের মুদ্রা পান শুল্ক অফিসারেরা। তিনি একাধিক ভাষায় অনর্গল কথা বলতেও পারতেন।

 হাজার বছরেরও পুরনো দেশ কেন মানচিত্রে অ্যান্ডোরা নামে চিহ্নিত রয়েছে সে নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন সেই ব্যক্তি টোকিয়োর যে সংস্থায় তিনি কর্মরত বলে জানিয়েছিলেন, খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সেই সংস্থা রয়েছে। অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে বেআইনি কিছুর প্রমাণ তখনও পর্যন্ত পাননি অফিসারেরা। তবে টোকিয়োর যে হোটেলে তিনি থাকেন বলে জানিয়েছিলেন সেই হোটেলের অস্তিত্ব থাকলেও তাতে তাঁর নামে কোনও ঘর বুকিং হয়নি বলে জানা গিয়েছিল।

হোটেলে তার ঘরের বাইরে দু’জন রক্ষীও মোতায়েন করা হয়তার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য শেষে বিমানবন্দরের কাছে একটি হোটেলে তাকে সেই রাতের মতো রাখার ব্যবস্থা করেন অফিসাররা। তিনি যাতে পালাতে না পারেন তার জন্য ঘরের বাইরে দু’জন রক্ষীও মোতায়েন করা হয়। ঘরটিতে একটিমাত্র দরজা ছিল। কোনো ব্যালকনিও ছিল না। বহুতলের একেবারে উপরের দিকে ছিল সেই ঘর। অথচ পর দিন সকালে শুল্ক অফিসারেরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ঘরে ঢুকে হতভম্ব হয়ে যান। ঘরের মধ্যে ওই ব্যক্তি ছিলেন না। দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করা ছিল।

অনেক চেষ্টার পরও তার কোনো খোঁজ মেলেনি, কীভাবে তিনি পালালেন সেই রাস্তাও পাননি পুলিশ অফিসাররা অনেক চেষ্টার পরও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। কী ভাবে তিনি সকলের নজর এড়িয়ে চলে গেলেন তা আজও জানা যায়নি। পরবর্তীকালে তাকে নিয়ে নানা মত উঠে এসেছে। কেউ মনে করেন, তিনি টাইম ট্রাভেল করে এসেছিলেন। কারও মতে তিনি ভিন্‌গ্রহের মানুষ। হুবহু পৃথিবীর মতোই দেখতে তার সেই গ্রহ। এবং ওই গ্রহেরই একটি দেশ টরেড। রহস্যজনক দেশ থেকে আসা ওই ব্যক্তি রহস্য হয়েই রয়ে গিয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে