প্রাচীন মিশরে অপরাধের বিচার করত মূর্তি, তার সিন্ধান্তেই মৃত্যুদণ্ড

প্রাচীন মিশরে অপরাধের বিচার করত মূর্তি, তার সিন্ধান্তেই মৃত্যুদণ্ড

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৯ ৯ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৪:১৩ ৯ জানুয়ারি ২০২১

মিশরের বিচার ব্যবস্থা ছিল বেশ অদ্ভুত

মিশরের বিচার ব্যবস্থা ছিল বেশ অদ্ভুত

বিশ্বের প্রতি পরতে পরতে রয়েছে রহস্য আর ধোঁয়াশা। সবচেয়ে বেশি রহস্যামন্ডিত প্রাচীন মিশর। নীলনদের তীরে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার ছিল নিজস্বতা। মিশরীয়রা ছিল নানান কুসংস্কারে বিশ্বাসী। মিশরের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে পিরামিড আর মমি।

মিশরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানব সভ্যতার প্রাচীন ইতিহাস। এদের পিরামিড, মমি, ফারাও ও রহস্যময় দেব-দেবীর মন্দিরের অসংখ্য কাহিনী জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসের সঙ্গে। নীল নদের তীরের এই মানুষগুলো হাজার হাজার বছর আগে এই রহস্য সৃষ্টি করেছে।  

আরো পড়ুন: এদেশে কুমারী মেয়ের হয় না বিয়ে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যত অদ্ভুত যৌনরীতি

সেসময় কীভাবে তারা এই মমি করার ব্যাপারটি বের করেছিল তা আজো অজানা। তবে মিশর যে শুধু পিরামিডের জন্যই সমৃদ্ধ তা কিন্তু নয়। নীল নদের তীরে মিশরীয় সভ্যতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক হিন্দু মন্দিরের ইতিহাস। শুধু তাই নয়, হিন্দু মন্দিরের আদলে তৈরি এক প্রাসাদও বেশ রোমাঞ্চ সৃষ্টি করেছে যুগ যুগ ধরে। এখেন নাকি প্রতি রাতে চলে রহস্যময় সব ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা। 

ফারাওরা শাসন করতেন মিশরকে মিশরীয়দের অন্যসব কিছুর মতোই অদ্ভুত ছিল বিচার ব্যবস্থা। বর্তমান বিশ্বে অপরাধীদের ধরতে ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার অনেক বেশি। সব দেশেই পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর কাছে প্রশিক্ষিত কুকুর রয়েছে। এদের কাজ হচ্ছে গন্ধ শুকেই অপরাধী এবং অবৈধ জিনিস খুঁজে বের করা। সাধারণত ডগ স্কোয়াডের মধ্যে থাকে জার্মান শেফার্ড ও ল্যাব্রাডর প্রজাতির কুকুর। এ প্রজাতির কুকুরগুলো খুবই ধূর্ত, সাহসী ও বুদ্ধিমান হয়। এদের যেভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় সেটা তারা অনুসরণ করতে সক্ষম। 

তবে বিংশ শতাব্দীতেই নয়, এটি চার হাজার বছর আগে মিশরে এর প্রচলন ছিল। প্রাচীন মিশরের পুলিশ প্রশিক্ষিত বানর দিয়ে চোর ধরতো। অপরাধীদের সনাক্ত করতেও ব্যবহার করতো বানর। কারণ বানর দ্রুত দৌঁড়ে ও লাফিয়ে চোরকে ধরে ফেলতো। চোর পালিয়ে গেলেও বানর মনে রাখতে পারতো চোরের চেহারা। এছাড়াও ৩ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরে অপরাধ তদন্ত ও বিচারে বেশ কিছু নিয়ম ছিল। 

বানর দিয়ে চোর ধরা হতসেকালে মিশরে তদন্তকর্মগুলো বেশ পরিপূর্ণ ছিল। অপরাধ সংঘটনের স্থান পরিদর্শন করা হতো আলাদা তদন্তকারীদের দিয়ে। অনুমাননির্ভর ধারণা থেকে নয়, বরং তারা সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার, সাক্ষীদের জবানবন্দি নেয়া, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, এমনকি তাদের পূর্ব-অপরাধের ইতিহাস আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতো।

আরো পড়ুন: বিলাসিতায় মগ্ন রাজার গলায় ২৯৩০টি হিরার কণ্ঠহার, সঙ্গী ৩৩২ জন যৌনদাসী! 

অপরাধী বা সাক্ষীরা স্বীকারোক্তি না দেয়া পর্যন্ত বেদম মারধরের শিকার হতেন মিশরে। সাধারণত, সত্য না জানা পর্যন্ত একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রহার করা হতো। কেউ অপরাধ অস্বীকার করলে তার ওপরও চলতো নির্যাতন।

অপরাধ স্বীকার না করা পর্যন্ত প্রহার করা হতশারীরিক নির্যাতনের ফলে অভিযুক্তরা মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে পারে এমন আশঙ্কা ছিল প্রাচীন মিশরীয়দের। তাই তারা ঘটনাস্থল তদন্তে প্রচুর সময় ব্যয় করতো। অভিযুক্ত ও সাক্ষীর বক্তব্যের সঙ্গে যদি ঘটনাস্থলের বর্ণনা মিলতো, তাহলে বুঝে নিতো সঠিক ব্যক্তিকে খুঁজে পেয়েছে তারা। 

সাক্ষ্যদানের সময় মিথ্যা বলার ও ধোঁকা দেয়ার খুবই কঠিন ছিল প্রাচীন মিশরে। এ ক্ষেত্রে তাদের অঙ্গচ্ছেদ করা হতো। আর কীভাবে এই শাস্তি দেয়া হবে তাও জানিয়ে দেয়া হতো। বেশ কঠোর ছিল প্রাচীন মিশরের আইন ও তদন্তব্যবস্থা। একইসঙ্গে এমন অনেক প্রমাণ মিলেছে যে, গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে আদালত তা নিয়ে তেমন মাথা ঘামাতো না। দূর্নীতি ও ঘুষের দাপট ছিল প্রচণ্ড। এমন ধনী কোনো অপরাধী বিচারককে কয়েকটা স্বর্ণের মোহর ঘুষ দিয়েও খালাস পেয়ে যেতেন বলে জানা গেছে।

পরকীয়ার শাস্তি ছিল সবচেয়ে বেশিপ্রাচীন মিশরে সবচেয়ে কঠোর শাস্তি ছিল পরকীয়ার। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ঠকালে মারাত্মক শাস্তি পেতে হতো তখন। অনেক ক্ষেত্রে এজন্য মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হতো। তবে নারীদের ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রাটা ছিল বেশি। যদি কোনো নারী স্বামীকে ঠকানোর দায়ে অপরাধী হতেন তার নাক কেটে ফেলা হতো বা জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হতো। পুরুষদের এক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড না হলেও ১ হাজার বেত্রাঘাত ও বিচ্ছেদের আদেশ দেয়া হতো। 

আরো পড়ুন: বাংলার বধূর সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার পেছনে করুণ ইতিহাস

মূর্তি দিয়ে বিচার কাজ করা হত প্রাচীন মিশরে বেশিরভাগ আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হতো। হাতেগোনা কয়েকজন যদিও বা ছাড়া পেতো কিন্তু রেকর্ডবইয়ে আজীবন “অপরাধী” হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকতো। মিশরীয় সভ্যতার শেষ কয়েক শতকের দিকে দেবতা আমুনের পুরোহিত আইন ও বিচার বিষয়ক সব ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে নেন।

সে সময় আমুনের একটি মূর্তির মাধ্যমে বিচার করা হতো। বিচারের সময় মূর্তির কাছে জানতে চাওয়া হতো কী করা উচিত। সেক্ষেত্রে মূর্তিটি সামনে গেলে “হ্যাঁ” এবং পেছনে গেলে উত্তর “না” ধরা হতো। তবে মজার বিষয় হলো, মূর্তি নাড়ানোর কাজটা মানুষকে দিয়েই করানো হত। মূর্তির নিচে থাকতো এক কক্ষ। যেখানে মূর্তিটিকে নাড়ানোর জন্য মানুষ থাকত। আগের পরিকল্পনা মত মূর্তিটিকে সামনে পেছনে নেয়া হত। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে