মিশরের ফারাওদের নির্মম নিষ্ঠুরতা, বিকৃত যৌনাচার থেকে রক্ষা পায়নি বামনরাও

মিশরের ফারাওদের নির্মম নিষ্ঠুরতা, বিকৃত যৌনাচার থেকে রক্ষা পায়নি বামনরাও

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৫ ২৯ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:৩১ ২৯ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মিশরের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে, মরুভূমির হলুদ বালির মধ্যে হাজার হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা পিরামিড আর মমির কথা। নীল নদের তীরে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার প্রতিটি বাকে আছে রহস্য। মিশরের হাজার হাজার বছর আগের এসব রহস্য এখনো আবৃত করে রেখেছে একে। মিশরের ফারাও থেকে শুরু করে এদের খাদ্যাভ্যাস, চালচলন সব কিছুই অন্যরকম। সেওময়কার পৃথিবীর সঙ্গে তাদের কোনো মিলই ছিল না।

মিশর মানেই রহস্য, মিশর মানেই নস্টালজিয়া। বিজ্ঞানের সাথে মিশর সভ্যতার অনেক গভীর একটা সম্পর্ক ছিল। প্রায় ৩ হাজার বছর ধরে এ সভ্যতাকে শাসন করে গেছে নিষ্ঠুর সব শাসকগোষ্ঠী। মিশরের ফারাও দের ব্যাপারে বর্তমান প্রজন্ম কতটুকু জানেন? ফারাও হচ্ছে মিশর শাসনের ভার যাদের হাতে ছিল অর্থাৎ রাজা। মিশরের শাসক বা রাজাদেরকে বলা হয় ফারাও। মিশরের রাজা বা ফারাওদের কথা বললে তৎক্ষণাৎ আমাদের চোখে নীল আর সোনালি মুকুট পরে সিংহাসনে বসে থাকা একজন পুরুষের অবয়বই ভেসে ওঠে। যদিও মিশরের শাসকদের বেশিরভাগই পুরুষ ছিলেন।

হায়ারোগ্লাফিকেও পাওয়া যায় সেসময় প্রজাতের নির্যাতনের চিত্র তারপরও ফারাও শব্দটা বিরলভাবে নারী শাসকদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হত। মিশরের ইতিহাসে নারী ফারাওরা বেশখানিকটা জায়গা জুড়েই রয়েছে। মিশরের সমৃদ্ধিতে তাদের অবদানও অনেক। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, মিশরের তিন হাজার বছরের ইতিহাসে ১৭০ জন ফারাওয়ের মাঝে সাত জন ছিলেন নারী। তবে এই ফারাওদের নিষ্ঠুরতার কাহিনী শুনলে আপনার এদেরকে বদ্ধ- উন্মাদ বলেও মনে হতে পারে। 

আরো পড়ুন: নির্মমভাবে হত্যা করে ফেলা হয় লেকে, হাজারো বছরেও পচেনি নগ্ন মৃতদেহ

নেফারকার 

নেফারকার ছিলেন একজন উন্মাদ শাসক
পৃথিবীর বুকে একেকজন ফারাও ছিলেন ভয়ানক স্বৈরাচারী, দাম্ভিক এবং বিকৃত যৌনাচারীর উদাহরণ।এমনই একজন বিকৃত মস্তিষ্কের শাসক ছিলেন ফারাও নেফারকার।  তিনি ছিলেন পুরাতন রাজত্বের শেষের দিকের প্রভাবশালী ফারাও। নেফারকার সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করতেন তার নিজের প্রজাদেরকেই। প্রজাদের তার নিজের প্রয়োজনে ইচ্ছা খুশি মতো ব্যবহার করতেন। এক লোককাহিনীতে জানা যায়, তিনি গায়ে মাছি বসা একদমই পছন্দ করতেন না। তাই মাছির উপদ্রব থেকে বাঁচতে তিনি একজন দাস নিযুক্ত করেছিলেন। যার কাজ ছিল গায়ে মধু মেখে নেফারকারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা। এতে যত মশা মাছি আছে সব দাসের গায়ে পড়বে। 

দক্ষিণ সাহারা মরুতে প্রথম বামনদের দেখতে পায় রাজার সৈন্যরা এখানেই শেষ নয়, নেফারকারের আকর্ষণ ছিল যত সব অদ্ভুত জিনিসের প্রতি। সাপ পছন্দ করতেন খুব। শরীরের উপর সাপ হেঁটেচলে বেড়াতো তার। এরকার তার কিছু সৈন্য দক্ষিণ সাহারা মরুতে অভিযানে গিয়েছিল। সৈন্যরা প্রথমবারের মতো সেখানে কিছু খর্বাকৃতির বামন মানুষের সন্ধান পান। একথা রাজাকে জানাতেই রাজা আদেশ দিয়ে বসেন, সেই বামনদের একজনকে তার চাই। পরবর্তীতে কিছু হায়ারোগ্লিফিক চিত্র থেকে জানা যায়, নেফারকার সেই বামনের সঙ্গে লিপ্ত হতেন নিবিড় সমকামিতায়। 

আরো পড়ুন: বাংলার ‘মোগলি’, যার কাহিনী কাঁদায় বিশ্ববাসীকে

জায়ার 

জায়ার
মিশরীয়রা বিশ্বাস করত মৃত্যুর পর তাদের আরেক জীবন শুরু হয়। তাই মৃত্যুর পর তাদের সমাধির সঙ্গে রেখে দেয়া হত। খাদ্য শস্য, ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বালিশ, পোশাক, খাবার এমনকি পোষ্যকেও। জানলে অবাক হবেন বৈকি! তাদের সমাধির সঙ্গে গর্ভধারণরোধী সামগ্রীও দেয়া হত।

ব্যবহারিত জিনিসপত্র সমাধির সঙ্গে রেখে দেয়া হত তবে এই সব মূঢ়তার সীমা অতিক্রম করেছিলেন মিশরীয় ফারাও জায়ার। পাঁচ হাজার বছর আগে প্রথম ঐক্যবদ্ধ মিশরের ফারাও ছিলেন ক্ষমতাধর রাজা জায়ার। তিনি ভাবতেন পরপারে একা যাওয়া তার মতো শাসকের জন্য একেবারেই মানানসই নয়। তাই শত শত প্রজাকে নিযুক্ত করেছিলেন মৃত্যুর সময় সঙ্গে নেয়ার জন্য। জায়ারের ইচ্ছানুযায়ী তার মৃত্যুর পর ৩১৮ জন প্রজাকে বিষপান করানো হয়। এরপর সকলকে জায়ারের সঙ্গে একই সমাধিতে সমাহিত করা হয়।

আরো পড়ুন: মৃত মানুষের মগজ খাওয়াই এই জাতির রীতি  

দ্বিতীয় আমেনহোতেপ

দ্বিতীয় আমেনহোতেপ
ফারাওদের এমন বর্বরতা তাদেরকে যেন প্রাচীন মিশরের একেকটি সাইকোপ্যাথে পরিণত করেছিল। এমনই একজন নির্দয় আর নিষ্ঠুর সাইকোপ্যাথ ছিলেন ফারাও দ্বিতীয় আমেনহোতেপ। সামান্য কারণে শত শত মানুষের লাশ ফেলে দিতেও পিছু পা হতেন না এই ফারাও। তার শাসনামলে নতুন করে শুরু হয়েছিল নরবলির প্রচলন। নৌকার সঙ্গে বেঁধে শত শত প্রজার মাথার খুলি চূর্ণ বিচূর্ণ করতে তার একটুও হৃদয় কাঁপেনি কখনো। 

তার মৃত্যুর পর স্ত্রী ও সন্তানকে তার সঙ্গেই সমাধি দেয়া হয়  বর্বরতার একেবারে চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছিলেন তিনি। এক প্রথার উদ্ভাবন করেই এই ফারাও। সেটা হলো- কারো স্বামী মারা গেলে স্ত্রী ও উপার্জনে অক্ষম সন্তানকে সেই ব্যক্তির সঙ্গে সমাহিত করতে হবে। তার বিশ্বাস ছিল এতে করে প্রিয়জনকে নিয়ে একসঙ্গে বাস করা যাবে দেবতা ওসাইরিসের স্বর্গে। এমনকি নিজেও এই প্রথাটি পুরোপুরি অনুসরণ করেছিলেন। ১৮৯৮ সালে তার সমাধির ভেতর থেকে তার স্ত্রী ও সন্তানের মমি উদ্ধার করেন মিশরবিদরা। 

যুগ যুগ ধরে এমন নিষ্ঠুরতা যেন নীলনদের পানির মতোই প্রবাহিত হয়েছে ফারাওদের মধ্যে। এর কারণ  হিসেবে গবেষকদের ধারণা, অসীম ক্ষমতা, অফুরন্ত বিত্ত আর অবিশ্বাস্য পদমর্যাদা। যেকোনো মানুষকে খুব সহজেই অন্ধকার জগতে নিয়ে যাওয়ার জন্যই যথেষ্ট। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে