রহস্যময় এই জমজদের কাহিনী হতবাক করবে আপনাকে

২য় পর্ব

রহস্যময় এই জমজদের কাহিনী হতবাক করবে আপনাকে

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪৮ ১৭ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৪:২১ ১৭ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জমজ দুই বোন হঠাৎ করেই হারিয়ে যায়। এর বহুবছর পর তাদের আকস্মিকভাবে দেখাও হয়ে যায়। তাদের দেখা হওয়ার পর নিজেদের দেখে তো তারা অবাক! শুধু তারা দেখতেই একরকম তা কিন্তু নয়। 

তাদের চলন, কথা-বার্তা এমনকি তাদের অভ্যাসগুলোও এক। আরো অবাক করা বিষয় হলো, এই বোনেরা জানতে পারে তাদের স্বামী ও সন্তানের নাম পর্যন্তও একই। 

আরো পড়ুন: রহস্যময় জমজ, দূরে বাস করেও স্বামী-সন্তানের নাম একই

ভাবছেন কি? এটি কোনো সিনেমার গল্প। একদমই নয়, সত্যি এমন অনেক রহস্যময় জমজদের গল্প বাস্তবেই রয়েছে। প্রথম পর্বের পর আজ থাকছে রহস্যময় জমজদের কাহিনীর নিয়ে দ্বিতীয় পর্ব। তাদের ঘটনা নিয়েই আজকে সাতরঙের আয়োজন- 

আনায়েস বর্ডিয়ার ও সামান্থা ফুটারম্যানআনায়েস বর্ডিয়ার ও সামান্থা ফুটারম্যান

তারা দুইজনেই ছোটবেলায় আলাদা হয়ে যায়। প্যারিসে বেড়ে ওঠা বর্ডিয়ার একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। যিনি লন্ডনে পড়াশোনা করেন। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে তার এক বন্ধু তাকে একটি ইউটিউব ভিডিওর স্ক্রিনশট পাঠায়। আর জিজ্ঞাসা করে দেখতে ঠিক তোর মতো না। আর তখনই প্রথমবারের মতো তার বোনকে সে দেখতে পান। 

আরো পড়ুন: স্বামীর অজান্তে একই বাড়িতে প্রেমিককে লুকিয়ে রাখেন ১৭ বছর

যিনি পেশায় একজন অভিনেত্রী। দীর্ঘ ২৬ বছর পর তাদের দেখা হয়। আনায়াসে বর্ডিয়ার এবং সামান্থা ফুটারম্যান তাদের দুইজনেরই হাসি এক রকম। এমনকি তাদের দুইজনেরই মুখে মেছতা আছে। তাদের চুল একইভাবে কাটা। তাও ছোটবেলা থেকেই। এমনকি তারা দু’জনেই গাজর খেতে একদমই পছন্দ করে না। শুধু এগুলোই না, তাদের দুইজনেরই ১০ ঘণ্টা ঘুম না হলে চলে না। এমনকি তাদের একই রকম নেইলপলিশও পছন্দ। 

গ্রেসি রেইনসবেরি এবং অড্রি ডেয়েরিংগ্রেসি রেইনসবেরি এবং অড্রি ডেয়েরিং

চাইনিজ অমর এই দুই বোন গ্রেসি রেইনসবেরি এবং আড্রি ডেয়েরিং দুর্ভাগ্যবশত তাদের জন্মের পর থেকে আলাদা হয়ে যায়। তারপর তাদের দত্তক নেয় আমেরিকার দুই পরিবার। ভাগ্য তাদের আবার মিলিয়ে দেয় ১০ বছর পর। যখন এই দুই বোনের দেখা হয় তখন দুই পরিবারই তাদের আচার-আচরণ মিল দেখে অবাক হয়। 

আরো পড়ুন: বাংলার বধূর সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার পেছনে করুণ ইতিহাস

এমনকি তাদের দুই বোনের চোখের সমস্যা ছিল। দু’জনই চশমা পরত। তাছাড়া তারা দু’জনই চিকেন খেতে অনেক বেশি পছন্দ করত। শুধু কি তাই তাদের দু'জনের একই খাবার পছন্দ ছিল। তারা একই পোশাক পছন্দ করত। আবার তাদের উচ্চতাও সমান ছিল।

জ্যাক ইউফ ও অস্কার স্টোহর জ্যাক ইউফ ও অস্কার স্টোহর 

তাদের কেউ দত্তক নেয়নি। আসলে ১৯৩৩ সালে জ্যাক ইউফ এবং অস্কার স্টোহরের জন্ম হয়। জন্মের পর মা তাদের বাবাকে ছেড়ে চলে যান। আর যাওয়ার সময় কেবল অস্কার স্টোহরকে নিয়ে তার নিজের দেশ জার্মানিতে চলে যান। জ্যাক ইউফ ও অস্কার স্টোহর দু'জনেই জানতেন না, তাদের আর কোনো ভাই আছে। এরপর অনেক বছর পার হয়ে যায়। অনেক বছর পর জ্যাক ইসরাইলে চলে যান। যেখানে তিনি ইসরায়েলি নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। 

২১ বছর বয়সে জ্যাক জার্মানিতে যান। তখনই অস্কার স্টোহরের সঙ্গে দেখা হয়। একে অন্যের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরই তারা খেয়াল করেন, তাদের গোঁফ আশ্চর্যজনকভাবে একই স্টাইলে কাঁটা ছিল। একই রকম জ্যাকেট পরে ছিলেন তারা। ছোটবেলা থেকে আলাদা থাকা স্বত্ত্বেও তাদের সব অভ্যাস মিলে গিয়েছিল। তারা একইভাবে হাঁচি দিত, একই কারণে তারা রাগ করত। এমনকি তাদের পছন্দের খাবারও একই ছিল।

শ্যারন পোসেট ও ডেবি মেহলম্যান 

শ্যারন পোসেট ও ডেবি মেহলম্যান ডেবির যখন ৪৫ বছর বয়স তখন তার মা প্রথমবারের মতো জানান, যে তাকে দত্তক নেয়া হয়েছে। তখন তার একটি জমজ বোনও হয়েছিল। এটি জানার পর থেকে ডেবি তার বোনকে খুঁজতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তার বোনকে খুঁজে পান। তাদের যখন দেখা হয় তখন তারা একে অপরকে দেখে অবাক হয়ে যান। কারণ তাদের দু’জনেরই একই রকম হেয়ার স্টাইল ছিল। এমনকি তারা দেখতেও একই রকম ছিল। 

তাদের দু'জনের অভ্যাসও মিলে যাচ্ছিল। তারা দু’জনই বেশ ধার্মিক ছিলেন। তবে ডেবি ইহুদি আর শ্যারন ছিলেন খ্রিস্টান। আলাদাভাবে বড় হওয়ার পরও তাদের দু'জনেরই রাজনৈতিক এবং সামাজিক চিন্তাভাবনা প্রায় একই। তাদের দু’জনের পছন্দ নাকি একই রকম। এমনকি তারা খাবারও একই রকম পছন্দ করে। 

ইলাইন অ্যালিন ও হেরি হোমস ইলাইন অ্যালিন ও হেরি হোমস 

ইলাইন এবং হেরির জন্মের পরই তারা আলাদা হয়ে যান। তারা কেউ জানতেন না তাদের কোনো বোন আছে। তবে ৩০ বছর পর দু’জনের ভাগ্যক্রমে দেখা হয়ে যায়। যখন তাদের দেখা হয়, তখন তারা নিজেদেরকে দেখে নিজেরাই অবাক হয়ে যান। কারণ কাকতালীওভাবে তাদের উচ্চতা, চেহারা ও হেয়ার স্টাইলও একই রকম ছিল। 

এমনকি তাদের খাবার এবং পোশাকের পছন্দও ছিল একই রকম। তাদের যখন জন্ম হয়, তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর তাদের মা ছিলেন অবিবাহিত। তাই সে এই দুই মেয়ে জন্ম হওয়ার পর তাদের মায়ের কাছে রাখেননি।

রহস্যময় এমন জমজদের সম্পর্কে আরো লোমহর্ষক কাহিনী জানবেন শেষ পর্বে। ততক্ষণ ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গেই থাকুন...

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস