নৃশংস শাস্তির বিধান! ছেলের মাংস রান্না করে খেতে দেয়া হয় বাবাকে

নৃশংস শাস্তির বিধান! ছেলের মাংস রান্না করে খেতে দেয়া হয় বাবাকে

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:০৮ ১৫ ডিসেম্বর ২০২০  

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

কথায় বলে আজ না হোক ২০ বছর বাদে হলেও, মানুষকে তার অন্যায়ের শাস্তি পেতেই হয়। তবে প্রাচীন পারস্যে অন্যায়ের জন্য যেসব শাস্তি দেয়ার প্রচলন ছিল তা শুনলে আপনার গা-হাত-পা রীতিমতো ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে! কেমন সেই ভয়ংকর শাস্তি? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক-

এবার পারস্যের বিখ্যাত এক বিচারক সিসামনেস, ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন। ফলে তৎকালীন রাজা দারিউস, বিচারক সিসামনেসকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সিদ্ধান্ত নেন। কি করলেন তিনি সিসামনেসের সঙ্গে ? 

আরো পড়ুন: নৃশংসভাবে বলি দেয়া হয় এই কুমারীকে, প্রকৃতিই তাকে করেছে মমি

প্রথমে জল্লাদ দিয়ে তার গলা কেটে জবাই করার পর, রাজার আদেশে মৃত সিসামনেসের শরীরের প্রতি ইঞ্চির চামড়া আলাদা করা হয় মৃতদেহ থেকে। সেই চামড়া দিয়ে কি করা হলো জানেন? পরবর্তী বিচারকের জন্য একটি চামড়ার চেয়ার! যাতে কেউ ঘুষ নেয়ার আগে ১০ বার ভাবে। 

নৃশংসভাবে হত্যা করা হত অপরাধীদেরআর পরবর্তী বিচারক হিসেবে সেই চেয়ারে কে বসলেন জানেন? সিসামনেসের ছেলে! নিজের বাবার চামড়ায় বানানো চেয়ারে বসেই তাকে চালিয়ে যেতে হয়েছিলো বিচারকার্য। 

আরো পড়ুন: স্বামীর অজান্তে একই বাড়িতে প্রেমিককে লুকিয়ে রাখেন ১৭ বছর

এবার শোনা যাক, পরবর্তী শাস্তির কথা। বর্তমানে দেশের সঙ্গে কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করলে বা ধর্মীয় হিংসা ছড়ালে তাকে জেলে পাঠানো হয়। তবে প্রাচীন পারস্যে এইরকম অপরাধের জন্য অপরাধীকে কি করা হতো জানেন? 

আরো পড়ুন: বাংলার ‘মোগলি’, যার কাহিনী কাঁদায় বিশ্ববাসীকে

৭৫ ফুট গভীরতা সম্পন্ন একটা ছাইয়ের স্তুপে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হতো। এতে হাড়গোড় তো ভাঙতোই। তারপর সেই অপরাধীর মৃত্যু সুনিশ্চিত করতে, উপর থেকে ঢালা হতো আরও ছাই। ফলে ছাইয়ের গাদায় পড়ে, নাকে-মুখে ছাই ঢুকে শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করত অপরাধীরা। দাফন করার জন্য মৃতদেহটাও পেতো না অপরাধীর পরিবার।

নৃশংসভাবে হত্যা করা হত অপরাধীদেরএবার যে শাস্তির কথা জানবো, সেটা সংঘাতিক নারকীয়! সেসময় পারস্য রাজার যে মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ হত, শুধু সেই মানুষকেই দেয়া হত এই নারকীয় শাস্তি। প্রথমে সেই মানুষটাকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে ঢুকিয়ে দেয়া হত একটা গাছের গুঁড়ির মধ্যে। 

আরো পড়ুন: বাংলার বধূর সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার পেছনে করুণ ইতিহাস

এরপর তাকে খাওয়ানো হতো প্রচুর পরিমাণে দুধ ও মধু। ফলে মানুষটির ডায়ারিয়া হতো। এরপর শরীরের অনাবৃত জায়গায় লাগিয়ে দেয়া হতো মধু। মল মূত্র ও মধুর গন্ধে একে একে তার শরীর ঘিরে ধরতো ছাড়পোকা, তেলাপোকা আর পিঁপড়া সঙ্গে মৌমাছি ও ভিমরুল তো আছেই।

আরো পড়ুন: বিস্ময়কর এক সুর বাজছে মরুভূমির বুকে, উৎস জানা নেই বিজ্ঞানীদেরও!

এভাবেই শরীরে পোকা ও পতঙ্গের কামড় খেয়ে ছটফট করতে করতে মারা যেত অপরাধী। বলা হয়, প্রথমে যে অপরাধীর উপর এই শাস্তি প্রয়োগ করা হয়েছিলো, সে ১৭ দিন এই যন্ত্রণা ভোগ করে মারা গিয়েছিল। 

নৃশংসভাবে হত্যা করা হত অপরাধীদেরএবার যে শাস্তির কথা বলব, সেটিকে অনেকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও, অনেকে আছেন যারা এই গল্পটা সত্যি বিশ্বাস করেন। রাজা আসতাগিয়েস একবার স্বপ্নে দেখেন, তার নাতি একদিন তাকে সিংহাসন থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেবে। একারণেই তিনি তার সেনাপতি হারপাগাসকে আদেশ দেন বাচ্চাটিকে জঙ্গলে ফেলে আসতে। 

হারপাগাস একটি শিশুর সঙ্গে এমনটি করতে চাননি, তাই তিনি এক মেষপালককে বাচ্চাটি দিয়ে আসেন। যখন রাজা আসতাগিয়েস ঘটনাটি জানতে পারেন, তিনি হারপাগাসের অজান্তে তার ছেলেকে ধরে এনে তাকে জবাই করেন। 

তারপর তার শরীর টুকরো টুকরো করে তেলে ভেজে, হারপাগাসের সামনে পরিবেশন করেন। হারপাগাসের খাওয়া যখন মাঝপথে, রাজা আসতাগিয়েস তার ছেলের কাঁটা মাথা মুখের সামনে ধরে বললেন, তুমি কি জানো? তুমি তোমার ছেলের মাংস খাচ্ছো? 

নৃশংসভাবে হত্যা করা হত অপরাধীদের

হারপাগাস বুঝলেন কোন অন্যায়ের শাস্তি হিসেবে তার সঙ্গে এমনটি করা হলো। এটাও বুঝলেন প্রতিবাদ করলে তার নিজের অবস্থাও ছেলের মতোই হবে। তাই নিজের কান্না আটকে, আক্রোশ থেকে বাঁচতে তিনি বললেন, রাজা যা করেছেন, ভালোই করেছেন! 

তারপর রাজার কাছে অনুরোধ করে ছেলের মৃতদেহের বাকি অংশ তিনি দাফন করে দেন। বুঝতেই পারছেন কতোটা নৃশংস ও পাশবিক ছিলো প্রাচীন পারস্য দেশের শাস্তি?

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস