ব্রুকলিন ব্রিজ বিক্রি করেছিলেন ৩ হাজার বার, বাদ যায়নি স্ট্যাচু অব লিবার্টিও

ব্রুকলিন ব্রিজ বিক্রি করেছিলেন ৩ হাজার বার, বাদ যায়নি স্ট্যাচু অব লিবার্টিও

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০০ ২৪ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:০৩ ২৪ নভেম্বর ২০২০

ছবি: ব্রুকলিন ব্রিজ বিক্রি করেছিলেন ৩ হাজারবার

ছবি: ব্রুকলিন ব্রিজ বিক্রি করেছিলেন ৩ হাজারবার

রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে কিংবা পত্রিকা, টেলিভিশনে আমরা কত কিছুরই না বিজ্ঞাপন দেখি। সাবান, শ্যাম্পু থেকে শুরু করে গাড়ি- বাড়ি সবকিছুরই চটকদার বিজ্ঞামনে মন ভোলায় ক্রেতার। প্রয়োজনীয় জিনিস যখন স্বাদ আর সাধ্যের মধ্যে পেয়ে যান, তখনই লুফে নেন সেটি। তবে এছাড়াও বহু মূল্যবান জিনিসপত্রও বিক্রি করা হয় বিজ্ঞাপন দিয়ে।

আপনি হয়তো রাস্তায় চলতি পথে খেয়াল করেছেন অনেকেই বিভিন্ন কিছুর বিজ্ঞাপন দিচ্ছে লিফলেটের মাধ্যমে। অনেক কিছু বিক্রির কথা শুনেছেন, তবে ব্রিজ বিক্রির কথা শুনেছেন কখনো? নাহ, কোনো দেশ নয় স্বয়ং এক ব্যক্তি বিক্রি করছেন বিশ্বের বড় বড় ব্রিজ এবং স্থাপনা। মানুষও কিঞ্ছেন তা দেধারচে। অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়?

নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ব্রুকলিন ব্রিজঅবাক হওয়ার ই কথা। তবে এটি একেবারেই সত্যি ঘটনা। জর্জ সি পার্কার নামের এক আইরিশ যুবক তিন হাজারবার বিক্রি করেছেন নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ব্রুকলিন ব্রিজ। বাদ পড়ে নি স্ট্যাচু অব লিবার্টিও। উনবিংশ শতকের শেষের দিকের কথা। এই আইরিশ যুবকের পরিবার নিজের দেশ ছেড়ে আমেরিকায় চলে আসেন সেই সময়টায়।

আরো পড়ুন: মানসিক রোগ যেভাবে মানুষকে যৌন বিকৃতিমনা করে তোলে

তারপর এখানেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা তার। ছোটো থেকেই বেশ ধুরন্ধর, তীক্ষ্ণ চোখে খেলে যাচ্ছে অদৃশ্য বুদ্ধির ঢেউ। অচিরেই নিজের এমন ‘ট্যালেন্ট’কে চিনে ফেললেন জর্জ। আর সেই বুদ্ধিই হয়ে ওঠে তার হাতিয়ার। শুরু হয় আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম বড়ো ‘কন ম্যান’-এর কাহিনী।  

জর্জ সি পার্কারউনবিংশ শতকেরই আশির দশকের কথা। নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন একজন। হঠাৎই তার কাছে হাজির হল কোট-টাই পরিহিত এক যুবক। দেখে মনে হচ্ছে বেশ সম্ভ্রান্ত। প্রাথমিক পরিচিতির পর যুবকটি ওই লোকটিকে বলল, আমি এই ব্রুকলিন ব্রিজের আসল মালিক। এই ব্রিজটি আপনাকে বিক্রি করতে চাই। এমন কথা শুনে যে কোনো মানুষেরই ঘাবড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাও ব্রুকলিন ব্রিজের মতো একটা ঐতিহাসিক, হেরিটেজ একটি স্থাপত্য! এখানেই ছিল ওই যুবক, অর্থাৎ জর্জ সি পার্কারের কেরামতি। 

আরো পড়ুন: বাংলার বধূর সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার পেছনে করুণ ইতিহাস

ঠিক কারা কারা তার এমন ‘প্ল্যান’-এর শরিক হবেন, বুঝে যেতেন সহজাত প্রতিভায়। যাদের কাছে বলতেন, অদ্ভুতভাবে তারা প্রত্যেকেই বিশ্বাসও করে নিতেন একটা সময়। তারপর এই মানুষগুলোই যখন কিছু অবৈধ কাজ করতে যেতেন, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে ধরা পড়তেন। আর বেঁচে যেতেন জর্জ পার্কার। 

 স্ট্যাচু অফ লিবার্টিযতবারই লোকের সঙ্গে কথা বলতেন, কখনই নিজের আসল পরিচয় দিতেন না। আর পুরো পরিকল্পনার পিছনে ছিল নানা অদ্ভুত ও মিথ্যা ‘পরিশ্রম’। কখনো ভুয়া পরিচয় প্রমাণ করার জন্য ডকুমেন্ট তৈরি, কখনো ভুয়ো অফিস সবকিছুই করা হত অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। একবার, দুবার নয়, প্রায় তিন হাজার বার ব্রুকলিন ব্রিজ বিক্রি করেছেন জর্জ সি পার্কার। পুলিশ হন্যে হয়ে যেত মানুষটির সন্ধানে। কিন্তু কিছুতেই ধরা যেত না রাঘব বোয়ালকে।

আরো পড়ুন: নগ্ন এক জাতি, ৬০ হাজার বছর ধরে রয়েছে সবার অগোচরে!

তবে কেবল ব্রুকলিন ব্রিজ বেচেই ক্ষান্ত হননি জর্জ। মাঝের সময় আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যও ‘বিক্রি’করে দিয়েছিলেন তিনি। যার মধ্যে ছিল গ্রান্ট’স টোম্ব, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন, এমনকি স্ট্যাচু অফ লিবার্টিও! গ্রান্ট’স টোম্ব বিক্রির সময় নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস গ্রান্টের নাতি হিসেবে।

ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন১৯০৮ সাল নাগাদ প্রথমবার পুলিশের নাগালে আসেন জর্জ সি পার্কার। কিন্তু কোর্টরুম চত্বর থেকেই তিনি পালিয়ে যান ছদ্মবেশ নিয়ে। তারপর আরও একবার ধরা পড়েন এবং এবারও পালিয়ে যান। শেষমেশ ১৯২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকাপাকিভাবে হাতকড়া ওঠে তার হাতে। বিচারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন জর্জ সি পার্কার। 

আমেরিকার সিং সিং কারাগারে জীবনের শেষ দিন অবধি কাটান তিনি। অবশ্য জেলের ভেতরেও রীতিমতো বিখ্যাত ছিলেন জর্জ। নিজের সমস্ত কীর্তিকলাপ গল্পের আকারে সেখানে শোনান তিনি। কিন্তু সেই সময় দীর্ঘ হয়নি। কারাবরণ করার আট বছরের মধ্যেই মারা যান জর্জ সি পার্কার। সেইসঙ্গে আমেরিকার অন্যতম বড়ো ‘কন-ম্যান’হিসেবে জায়গা পান ইতিহাসে। শুধু কি ইতিহাস? ব্রুকলিন ব্রিজ যতদিন থাকবে, ততদিন থেকে যাবেন জর্জ সি পার্কারও।  

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে