ক্লিওপেট্রা ও সিজারের সন্তান ‘সিজারিওন’ এর শেষ পরিণতি

শেষ পর্ব

ক্লিওপেট্রা ও সিজারের সন্তান ‘সিজারিওন’ এর শেষ পরিণতি

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:০৩ ২৪ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:০৫ ২৪ নভেম্বর ২০২০

ছবি: ক্লিওপেট্রা সিনেমার দৃশ্য

ছবি: ক্লিওপেট্রা সিনেমার দৃশ্য

যুগ যুগ ধরে যত রূপসী নারীর কথা ইতিহাসের পাতায় উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রানি ক্লিওপেট্রা অন্যতম। তার রূপের প্রশংসা বিশ্বজোড়া। তাকে নিয়ে হাজারো কৌতূহল রয়েছে বিশ্ববাসীর মনে। শুধু সৌন্দর্য নয়, বুদ্ধিমত্তায়ও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

আরো পড়ুন: ক্লিওপেট্রা ও সিজারের সন্তান ‘সিজারিওন’ এর শেষ পরিণতি

মিশরের ফারাও রাজবংশের সর্বশেষ রানি ছিলেন ক্লিওপেট্রা। তার প্রেম নিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক গল্প-অনেক কাহিনীর অবতারণা হয়েছে। ক্লিওপেট্রা ও জুলিয়াস সিজারের ভালোবাসায় জন্ম নেয় এক পুত্র। যার নাম রাখা হয় সিজারিওন। তিন বছর বয়সে মিশরের রাজা হিসেবে সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। 

প্রথম পর্বে তার জন্ম ও সাময়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। আজকে এর শেষ পর্বে থাকছে যেভাবে অল্প বয়সেই ঝরে পড়তে হয় এই শাসককে। তার শেষ পরিণতি যা হয়েছিল- 

সিজারকে হত্যা করা হয়৪৪ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের কোনো এক উৎসবের দিনে সবকিছুর পরিসমাপ্তি ঘটল। রোমের সিনেট বিল্ডিংয়ের সন্মুখ চত্বরে সিজার ছুরিকাঘাতে নিহত হলেন। এরপর সিজারের আইনসম্মত উত্তরাধিকারী এবং ভাগ্নে অক্টোভিয়ান সিজারিওনকে মেনে নিলেন না। 

মৃত্যুর আগে সিজার কখনো স্বীয় পুত্র বা ক্লিওপেট্রাকে কোনো উইল করে যেতে পারেননি। বাধ্য হয়ে সিজার হত্যাকাণ্ডের পর ক্লিওপেট্রা রোম থেকে পালিয়ে জন্মভূমি আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রত্যাবর্তন করেন।

পুত্রের সঙ্গে ক্লিওপেট্রার রাজ্য শাসন

আলেকজান্দ্রিয়ায় ফেরত আসার সময় ক্লিওপেট্রার সম্বল ছিল কেবল তার দ্বিতীয় স্বামী অর্থাৎ পরবর্তী ভাই টলেমি ১৪। সেও এক সময় নিহত হলো এবং সিজারিওনই শেষ পর্যন্ত ৩ বছর বয়সে পরবর্তী রাজা হিসেবে উত্তরাধিকারপ্রাপ্ত হন। আলেকজান্দ্রিয়ায় ফিরে আসার পরপরই রানি ক্লিওপেট্রা তার সব শক্তি একীভূত করতে শুরু করেন। 

মার্ক অ্যান্টনির সঙ্গে প্রেমে জড়ান ক্লিওপেট্রা এরপর ৪১ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে মার্ক এন্টনির পক্ষ থেকে টারসাস সফরের দাওয়াত পেলেন ক্লিওপেট্রা। এরইমধ্যে এন্টনিকে কীভাবে পেতে হবে সে সম্পর্কে ভালোভাবেই জেনে গিয়েছিলেন তিনি। ক্লিওপেট্রা আর এন্টনি ৪১ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ ৪১-৪০ পর্যন্ত শীত মৌসুম আলেকজান্দ্রিয়ায় কাটালেন। ক্লিওপেট্রা চাইলে সবকিছুই পেতে পারতেন যা মনে চাইত। তবে পরে এন্টনির ওপর ক্লিওপেট্রা খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। 

ক্লিওপেট্রা আর মার্ক এন্টনির প্রেমের কথা তখন রাজ্যের প্রধান আলোচনার বিষয়। সবকিছু চলছিল ঠিকঠাক মতোই। এরই মধ্যে দু'জনের সম্পর্ক যেন আগের চেয়ে অনেকটা ফিকে হয়ে এলো। এরইমধ্যে অক্টোভিয়া আরো একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। অ্যান্টনি জানালেন, কন্যাসন্তান জন্মদানের ব্যাপারটি তিনি মেনে নিয়েছেন।

এরপর তাদের নামও দেয়া হয়েছিল সেভাবেই- আলেকজান্ডার হেলিওস ও ক্লিওপেট্রা সেলিনি। রাজ্য ভাগ করতে গিয়ে মার্ক অ্যান্টনি ক্লিওপেট্রাকে দিলেন বিশাল কৃষিক্ষেত্র। এটি ক্লিওপেট্রা এবং মিশরের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল।

ক্লিওপেট্রা তার সন্তানের মাথায় মুকুট পড়িয়ে দিচ্ছেনক্লিওপেট্রার জীবনে সবচেয়ে বড় জাঁকজমকর মুহূর্তটি আসে খ্রিস্টপূর্ব ৩৪ সালে। আলেকজান্দ্রিয়া জিমনেসিয়ামে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে, যখন অ্যান্টনি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশরের রানি হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং সিজারিয়ানকে কিং অব কিং উপাধি দিয়েছিলেন। 

অ্যান্টনি জুলিয়াস সিজারের বৈধ পুত্র হিসেবে সিজারিয়ানকেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেন। অ্যান্টনি তার তিন সন্তানকে ক্লিওপেট্রার সঙ্গে রাজকীয় উপাধি দিয়েছিলেন এবং তার পুত্র আলেকজান্ডার হেলিওসকে রাজ্য উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সিজারিওনের কঠিন মৃত্যুদণ্ড

একসময় ক্লিওপেট্রা সিদ্ধান্ত নেয়, সিজারিয়ানকে শহর থেকে বাইরে পাঠিয়ে দেয়াটাই নিরাপদ। সিজারিয়ান তার গৃহশিক্ষকের সঙ্গে দক্ষিণে যাত্রা করেন। যিনি তাকে নীল নদী ধরে খুব দূরের কোপ্ট গ্রামে নিয়ে গিয়েছিলেন, গ্রামটি থিবস নগরীর কাছেই। 

সিজারিওনের ভাস্কর্যসেখান থেকে কাফেলাগুলো যাত্রা শুরু করে পূর্ব মরুভূমি পেরিয়ে লোহিত সাগরের তীরে বাণিজ্যিক বন্দর বেরেনিসে আসে। সিজারিয়ানের তখন পালানোর পথ ছিল। যদি তিনি এই পথটি পাড়ি দিতে পারতেন তবে তিনি মিশর থেকে বের হয়ে আরব এমনকি ভারতের দিকে যাত্রা করার সুযোগ পাবেন।

বন্দরের দিকে যাওয়ার পথে সিজারিয়ান জানতে পারেন, রোমান সৈন্যরা আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রবেশ করেছে এবং তার মা এবং মার্ক অ্যান্টনিকে হত্যা করা হয়েছে। এখন তার পালিয়ে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তবে তার গৃহশিক্ষক পরামর্শ দিলেন যে, অষ্টাভিয়ান এতিমদের প্রতি করুণা বোধ করেন অর্থাৎ তিনি কৃপা হবেন।

প্রকৃতপক্ষে অক্টাভিয়ান যুবক সিজারকে বাঁচিয়ে রাখার কথা বিবেচনা করেছিলও। ফলে খ্রিস্টপূর্ব ৩০ সালে সিজারিয়ান যখন অক্টাভিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য আলেকজান্দ্রিয়ায় পৌঁছেছিলেন, তখনই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। আর সেইসঙ্গে রোমান-মিশরীয় ফারাওয়ের স্বপ্ন অদৃশ্য হয়ে যায়। মিশরের প্রাচীন টলেমিক রাজ্যের অবসান ঘটে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/কেএসকে